শুভেন্দুর দাবি, শুধু দল নয়, পুলিশ প্রশাসনের একাংশও জড়িত এই বেআইনি কারবারে। তাঁর কথায়, ‘‘এসপি, আইসিরা সব কাজ ছেড়ে শুধু টাকা তোলার কাজে ব্যস্ত।’’

শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ বালি ব্যবসা নিয়ে (Illegally sand money) ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার সকাল থেকে ঝাড়গ্রাম, কলকাতার বেহালা-সহ ২২টি জায়গায় ইডির হানা ঘিরে মুখ খুললেন তিনি।
অভিযোগের আঙুল সরাসরি তৃণমূলের দিকে (Tmc)। শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘ভয়ঙ্করভাবে বালি তোলা হচ্ছে। কাঁসাই, সুবর্ণরেখা— কোনও নদীর অস্তিত্ব আর নেই। সমস্ত টাকা যাচ্ছে তৃণমূলের পকেটে।’’
শুভেন্দুর দাবি, শুধু দল নয়, পুলিশ প্রশাসনের একাংশও জড়িত এই বেআইনি কারবারে। তাঁর কথায়, ‘‘এসপি, আইসিরা সব কাজ ছেড়ে শুধু টাকা তোলার কাজে ব্যস্ত।’’
সম্প্রতি লালগড়ে পুলিশের অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আইসি সৌরভ রায়ের নেতৃত্বে একেবারে একটা গ্রামকে জেল খাটিয়েছে পুলিশ। বিনা দোষে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, আসল অপরাধীরা রেহাই পাচ্ছেন, অথচ গ্রামের নিরপরাধ মানুষকে জেলে পাঠানো হচ্ছে।
বিরোধী দলনেতা এ দিন জানান, বিজেপির তরফে খুব শিগগিরই জঙ্গলমহলের নির্যাতিত গ্রামগুলি পরিদর্শন করবেন দলের এমএলএরা। তাঁর দাবি, ‘‘আমরা যা করার করছি। আজকে নয়, এক বছর ধরে লেগে রয়েছি।’’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ইডির হানার আবহেই শুভেন্দুর এই মন্তব্য বিজেপির কৌশলকেই স্পষ্ট করছে— জঙ্গলমহলে মানুষের ক্ষোভকে সংগঠিত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, ইডি সূত্রে খবর, বালি পাচার ও বেআইনি ব্যবসার নথিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দামে বালি বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান— একাধিক জেলায় অভিযান চালাচ্ছে ইডির চার-পাঁচটি বিশেষ টিম। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, অনিয়ন্ত্রিত বালি খননের জেরে পরিবেশ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করে এ দিন অভিযান শুরু করেছে ইডি।