১৯৬০ সালে পথচলা শুরু হলেও ২০১৮ সালে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শুরু হয়েছিল বসন্ত উৎসব। তখন বিভাগীয় প্রধান ছিলেন অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস।
.jpg.webp)
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব
শেষ আপডেট: 26 February 2026 00:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে দোলযাত্রা (Dolyatra) বা হোলি (Holi) অন্যতম। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, দোল পূর্ণিমার (Dol Purnima) দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীনীদের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। অন্যদিকে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Thakur) বসন্ত উৎসব (Basanta Utsab) চালু করেছিলেন। তাই রঙিন এই উৎসবের দিকে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। সেই দোল আসতে এখনও কয়েকদিন বাকি। তার আগেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের (Kalyani University) বাংলা বিভাগের আম্রকুঞ্জে নতুন ও পুরাতনের মিলনের পাশাপাশি বসন্তের গানে অনুষ্ঠিত হল বসন্ত উৎসব।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল বলেন, 'বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তকাল দু’মাস। প্রকৃতির বিবিধ বৈচিত্র্যের মতোই আবিরের (Abir) বিভিন্ন রং-এও রয়েছে সেই বৈচিত্র্য। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রাসায়নিক মুক্ত ভেষজ আবির তৈরি করেছে এবং আজ সেই ‘কল্যাণবর্ণ’ দিয়েই সকলে মেতেছে বসন্ত উৎসবে, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।'

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব
জানা গেল, ১৯৬০ সালে পথচলা শুরু হলেও ২০১৮ সালে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শুরু হয়েছিল বসন্ত উৎসব (Basanta Utsab)। তখন বিভাগীয় প্রধান ছিলেন অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'ঝরে যাওয়া এবং নব সাজে সজ্জিত হওয়া নিয়েই তো জীবন। বসন্ত হল সেই ক্রান্তিকাল। নতুন-পুরনোর মেলবন্ধনের মধ্যেই রয়েছে বসন্ত উৎসবের (Basanta Utsab) সার্থকতা। আমরা মাত্র পাঁচজন অধ্যাপক মিলে শুরু করেছিলাম এই উৎসব। ভাবতে ভাল লাগছে, এখন এই উৎসব পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।’
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও বাণিজ্য অনুষদের অধ্যক্ষ অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'দোলযাত্রার এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্রকুঞ্জ আবিরে আবিরে রঙিন হয়ে উঠল এখন থেকেই।'
উল্লেখ্য, বাংলা বিভাগ (Bengali Department) ব্যতীত অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রী-গবেষকরাও সামিল হয় এই আনন্দ উৎসবে। বিভাগের আম্রকুঞ্জে তাঁরা বসন্তনৃত্য ও আবির খেলায় যোগ দেয় বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। শ’দুয়েক ছাত্রছাত্রী-গবেষকের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক প্রবীর প্রামাণিক, ড. পীযূষ পোদ্দার, ড. তুষার পটুয়া, ড. সীমা সরকার-সহ প্রমুখ।