এরপরই দলের তরফে লোকসভায় চিফ হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং উপ দলনেতা হিসেবে শতাব্দী রায়ের নাম ঘোষণা করা হল।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশমিত করতে আসরে নেমেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক কল্যাণকে বলেছিলেন, চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা প্রত্যাহার করে নিন। বুধবার সন্ধেয় দিল্লি যাব, বৃহস্পতিবার আপনার সঙ্গে দেখা হবে। ততদিন চুপচাপ থাকুন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সুযোগ আর দিলেন না কল্যাণকে। তার আগেই চিফ হুইপ পদ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা গ্রহণ করে নিলেন। শুধু তা নয়, ওই পদে বসালেন তাঁর আস্থাভাজন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। লোকসভায় তৃণমূলের উপ দলনেতা করলেন শতাব্দী রায়কে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে একটা ব্যাপার স্পষ্ট। তা হল কল্যাণের উপর নির্ঘাত চটেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কারণে ইস্তফাপত্র গ্রহণে কোনও দেরি করলেন না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, কল্যাণও যেন পাল্টা মেজাজ ধরে রেখেছেন। দলনেত্রী তাঁর ইস্তফা গ্রহণের পর কল্যাণ সোশাল পোস্টে লিখেছেন—চেয়ারপার্সনকে বলছি, ইস্তফা গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ।
সোমবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠকে স্থির হয় লোকসভায় দলনেতা হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর পরই বৈঠক থেকে বেরিয়ে কল্যাণ সাংবাদিকদের বলেন, “মমতাদির মনে হয়েছে আমি দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছি না। তাই চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।" কল্যাণ এও অভিযোগ করেন, নিশ্চয়ই কেউ দিদির কান ভাঙিয়েছেন। এ ব্যাপারে মহুয়া মৈত্র বিরুদ্ধেও ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন।
তৃণমূলের অনেক নেতা মনে করেন, কল্যাণ যে ভাবে রাগ দেখিয়েছেন, তা যতটা না মহুয়ার বিরুদ্ধে তার চেয়ে হয়তো অনেক বেশি দিদির বিরুদ্ধে। কল্যাণ হয়তো আশা করেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তাঁকে লোকসভায় দলনেতা করা হবে। কিন্তু তা না হওয়াতেই হতাশ হয়েছেন।
কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক নেতার কথায়, কল্যাণ সোমবার এক প্রকার কাদা ঘেটে ফেলেছেন। সংসদীয় বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বসম্মত ভাবে লোকসভার নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল। তা ছিল দলের আনন্দের মুহূর্ত। তৃণমূলের জন্য এবং অভিষেকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের জন্য মাইলফলকও।
সেই ‘হ্যাপি আওয়ার’ তথা আনন্দ-পর্বটাই ঘেঁটে দেন কল্যাণ। তাঁর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকট ভাবে ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, এও স্পষ্ট হয়ে যায় স্বার্থে আঘাত লাগলে খোলাখুলি দিদিকে বার্তা দিতেও তিনি রেয়াত করবেন না। এতেই হয়তো অসন্তুষ্ট হয়েছেন দিদি। কল্যাণের আরও ডানা ছাঁটা যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।