এই রায়ের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চাকরিহারা আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। তাঁদের কথায়, “বিচার নয়, বলির পাঁঠা বানানো হল আমাদের। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাঁচাতে আমাদের বলি দেওয়া হল।”
.jpeg.webp)
সুমন বিশ্বাস ও মেহেবুব মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 19 August 2025 21:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনি লড়াই, একের পর এক শুনানি, অপেক্ষা আর আশার পর শেষমেশ ভেঙে পড়ল হাজার হাজার চাকরিহারা শিক্ষকের স্বপ্ন (SSC 2016 Job Cancellation)। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিল— এই নিয়োগ ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’। রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশনও খারিজ। অর্থাৎ, হাই কোর্টের রায়েই সিলমোহর সর্বোচ্চ আদালতের।
এই রায়ের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চাকরিহারা আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। তাঁদের কথায়, “বিচার নয়, বলির পাঁঠা বানানো হল আমাদের। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাঁচাতে আমাদের বলি দেওয়া হল।”
চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের অভিযোগ, “কোর্ট এসএসসির দুর্নীতি নিয়ে বহু কথা বলল, অথচ আমাদের মতো যোগ্যদের জন্য কোনও ভাবনা রাখল না। বিচারব্যবস্থা আমাদের চাকরি ফেরাতে পারল না— এটা অত্যন্ত লজ্জার।”
সুমনের আরও প্রশ্ন, “১০ বছর পর আবার কীভাবে পরীক্ষা দেব? যদি দিতেই হয়, তবে অভিজ্ঞতা যেন মূল্য পায়। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ৪০ নম্বর বরাদ্দ করতে হবে এবং অন্তত তিন মাস সময় দিতে হবে। আর পরীক্ষা দেব শুধু আমরাই।” তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “আবারও এসএসসি অভিযান হবে। ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হব।”
কে এই সুমন বিশ্বাস? গত সোমবার এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তার আগে সোমবার ভোররাতে পুলিশ আদিসপ্তগ্রাম থেকে আটক করে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুমন বিশ্বাসকে। আটকে রাখা হয় প্রায় ৮ ঘণ্টা। এরপর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও, সুমনের বিস্ফোরক অভিযোগ— “পুলিশ আমাকে কার্যত অপহরণ করেছিল।”
আদালতের রায় সামনে আসতে আর এক চাকরিপ্রার্থী চিন্ময় মণ্ডলের কথায়, “সাধু আর চোরকে আলাদা করা হল, কিন্তু যোগ্যদের চাকরি ফিরল না। এই বিচার ব্যবস্থা জনগণের জন্য নয়, দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করার জন্য।”
সুমন বিশ্বাস সুর চড়িয়ে বলেন, “কোর্ট যদি রাজনৈতিক নেতাদের অঙ্গুলিহেলনে চলে, তবে এমন রায়ই আসবে। আমাদের ভরসা ছিল আইনের উপর। কিন্তু সে ভরসা আজ ভেঙে খানখান।”
বিচারব্যবস্থার রায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— এখানেই থেমে থাকবে না তাঁদের লড়াই। নতুন করে সময়, সুযোগ ও ন্যায্যতার দাবিতে তাঁরা রাস্তায় নামছেন ফের। শীর্ষ আদালতে নতুন মামলা, আরও সংগঠিত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা বলছেন, “চাকরি ফেরানো না পর্যন্ত শান্তি নেই।”
আদালতের এই রায় যেমন চূড়ান্ত পরিণতির দিকনির্দেশ দিয়েছে, তেমনই নতুন করে উস্কে দিয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক। সামনে সময়েই বোঝা যাবে, চাকরিহারা শিক্ষকদের এই ক্ষোভ কী মোড় নেয় এবং সরকার বা কমিশনের তরফে নতুন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা।