প্রসঙ্গত, যার দলের বিরুদ্ধে এই খুনের অভিযোগ উঠেছে, সেই শেরু এখন পুরুলিয়ার জেলে রয়েছে। সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 19 July 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার হাসপাতালে কয়েদি খুনের সঙ্গে কি তাহলে বাংলার যোগ? গত ১৭ জুলাই পাটনার পারস হাসপাতালে কয়েদি খুনের ঘটনায় কলকাতার নিউটাউন থেকে গ্রেফতার ৫ জন, আটক ৪। গ্যাং-ওয়ারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
জানা গিয়েছে, পাটনা থেকে ফোনে কথা বলে সুপারি দেওয়া হয় তৌসিফ বাদশার গ্যাংকে। পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ অফিসে অভিযুক্তদের নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিহার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, যার দলের বিরুদ্ধে এই খুনের অভিযোগ উঠেছে, সেই শেরু এখন পুরুলিয়ার জেলে রয়েছে। সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানান, 'আমাদের টিম এই নিয়ে কিছু কাজ করছিল। এখন এই ঘটনার তদন্ত চলছে, তাই এই ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারব না।'
খুনের মূল কারণ, প্রাক্তন দুই সঙ্গী চন্দন মিশ্র ও শেরু গ্যাংয়ের নেতৃত্ব শেরুর মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব। জেলে থাকাকালীন তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, চন্দন পরে ‘শেরু গ্যাং’ নাম ব্যবহার করেই পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তোলে। সেই জেরেই এই হামলা, অনুমান পুলিশের। সেই রেষারেষিতেই কি মৃত্যু, আর কে বা কারা এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটনায় গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তরা ঘটনার পর শাপুরজিতে এসে লুকিয়ে পড়েছিল।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা নিউটাউনের ওই অভিজাত আবাসন চত্বরে ভাড়া ফ্ল্যাটে আশ্রয় নিয়েছিল। কার মাধ্যমে তারা এই ঘর ভাড়া নিয়েছিল, সেই সূত্রে তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শুক্রবার সকালে অভিযান চালানো হয়। তখনই ওই পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।
তদন্তকারীদের অনুমান, গুলি-কাণ্ডের মূল চক্রীদের মধ্যে কয়েকজন এর মধ্যে আছে। যদিও ধৃতদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ। তাদের বিহার নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
গত বৃহস্পতিবার, পাটনার নামী প্যারাস হাসপাতালে ঢুকে একদল ব্যক্তি আইসিইউ-তে গুলি চালিয়ে খুন করে চন্দন মিশ্র নামে এক অপরাধীকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচজনের একটি দল চুপচাপ হাসপাতালের করিডরে ঢুকছে। সামনে তৌসিফ, হাতে বন্দুক। বাকিরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেলেও, তৌসিফ বেরিয়ে যায় একইভাবে, অনায়াসে, যেন কিছুই হয়নি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই পাটনা ও বক্সারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। তল্লাশি চলছে ‘শেরু গ্যাং’-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তি ও আস্তানায়। নিহত চন্দন মিশ্রের বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা ছিল, যার মধ্যে ১২টিরও বেশি খুনের মামলা। সে একটি মামলায় সাজা খাটছিল, তবে ওই সময় মেডিক্যাল প্যারোলে বাইরে ছিল।