মাসে দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভূকম্পন প্রবণতা বাড়ছে কি না এবং এই পরিস্থিতিতে তিলোত্তমার অবস্থান ঠিক কোথায়, জানালেন পরিবেশবিদ।
.jpeg.webp)
পরিবেশবিদ ও স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 27 February 2026 17:20
চলতি মাসে দু'বার। সম্প্রতি আরও একাধিকবার। কেঁপেছে বাংলা, অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও। উত্তর ভারত, সিকিমে কম্পনের পরিমাণ আরও বেশি। আজকের কম্পন মনে করাচ্ছে নেপালের ভয়াবহ স্মৃতির কথা। এই পরিস্থিতিতে সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, আমরা এশহরে কতোটা নিরাপদ। একই মাসে দু'বার কাঁপায় আতঙ্কিত প্রায় সকলেই।
শিওরে বিপদ? ভূমিকম্পের পর রাস্তাঘাটে এখন একটাই কথা। অনেকেই বলছেন, সাম্প্রতিককালে এমন দুলুনি কখনও অনুভব করেননি। হেলে পড়েছে শহরের একটা বহুতল। এপিসেন্টার এরাজ্যের নাকের ডগায় হওয়ায় ভয় ধরাচ্ছে কম্পনের মাত্রা। কেন হল এমন, উঠছে সে প্রশ্নও। এনিয়ে পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য ওয়াল। তিনি এমন কিছু তথ্য দিলেন, যা রীতিমতো চমকপ্রদ।
বিপদ কি বাড়ছে?
পরিবেশবিদের কথায়, যে পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি, তাতে সারা পৃথিবীতেই আশ্চর্যজনক ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন নজরে আসছে। তা অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। প্রভাব যে পড়ছে তার ফল এসব ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণায়নের মাত্রা বাড়ছে, কার্বনের মাত্রা বাড়ছে বাতাসে, সেখানে এই ধরনের ভূমিকম্প হওয়া স্বাভাবিক।
ঘন ঘন হচ্ছে ভূমিকম্প
এ মাসে কলকাতায় দু'বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। অনেকেই এতে আশ্চর্য হচ্ছেন। সকলেরই কথা, 'আগে তো এতবার হত না!' পরিবেশবিদের কথায়, একবার জোরালো কম্পনেই মাটির গঠনে পরিবর্তন হচ্ছে। ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে জায়গাগুলো। পরবর্তীকালে যদি কখনও প্রচুর বৃষ্টি হয় একই এলাকায়, তাহলে ধস নামার প্রবণতা থাকবেই।
তিনি খানিকটা সচেতন করেই বলেন, 'সব মিলিয়ে এটা খুব মারাত্মক পরিস্থিতি। পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে এবার সচেতন হতেই হবে। আর সচেতনতার সঙ্গে পদক্ষেপও প্রয়োজন।'
তাহলে শহরবাসী কী কী ক্ষেত্রে সচেতন হবেন?
বিভিন্নভাবে বাতাসে কার্বনের মাত্রা বাড়ছে। গত বছর মারাত্মক গরম ও একইভাবে মারাত্মক বৃষ্টিও হয়েছিল। বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। বৃষ্টি এখন যেভাবে হয় রাজ্যে এবং গোটা পৃথিবীতেই, তা অ্যালার্মিং। এগুলোর নেপথ্যে রয়েছে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। তাহলে কী কী করতে হবে?
কলকাতার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
কম্পন যখন হয় তখন তারপর আবার একাধিক বার কম্পনের সম্ভাবনা থাকে। তাই শহর তো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েই। পরিবেশবিদের মন্তব্য, বিপদজনক বাড়িগুলোকে চিহ্নিত করে সেখানকার মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরাতে হবে এখন। কলকাতায় জনসংখ্যা বেশি তাই ভূমিকম্প হলে অনেক মানুষের উপর প্রভাব ফেলবে। চেতন থাকতে হবে খুব।