Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

সম্প্রীতির এক অনন্য পাঠ সরকারি স্কুলে, সব ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ উপহার দিল সরস্বতী ভাণ্ডার

সরস্বতী ভাণ্ডারের উদ্যোগে বিধাননগরের ইউনাইটেড স্কুলে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ বিতরণ, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানবধর্মে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান।

সম্প্রীতির এক অনন্য পাঠ সরকারি স্কুলে, সব ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ উপহার দিল সরস্বতী ভাণ্ডার

সরস্বতী ভাণ্ডারের উপহার।

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 24 July 2025 20:06

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধাননগরের ইউনাইটেড স্কুল চত্বরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ— সব ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ একসঙ্গে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হল শিক্ষার্থীদের হাতে। এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন সরস্বতী ভাণ্ডারের পক্ষ থেকে ঝর্ণা ভট্টাচার্য।

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী? ধর্মীয় ভেদাভেদকে অতিক্রম করে শিশুদের মনে মানবধর্মের বীজ রোপণ করা। ঝর্ণা দেবীর স্পষ্ট কথা, 'সব ধর্মই মানুষকে ধারণ করতে শেখায়। কিন্তু আজকের দিনে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ধর্মকে ঘিরে বিভাজন, বিদ্বেষ আর হিংসার ছায়া। সেই বিপরীত ধারা পালটাতে চাই আমরা। সব ধর্মের উৎস একই মানবিক মোহনায় এসে মিলে যায়— এই শিক্ষা দিতে চাই ভবিষ্যতের প্রজন্মকে।'

ঝর্ণা ভট্টাচার্যের এই অভিনব ভাবনায় সামিল হয়েছিলেন লায়ন্স ক্লাব ম্যাগনেট এবং রোটারি কসবার একাধিক প্রতিনিধি। তাঁদেরও বক্তব্য, যদি ছোট বয়সে শিশুদের শেখানো যায় যে ধর্ম বিভাজনের নয়, বরং বন্ধনের শক্তি, তবে সমাজ আরও সহিষ্ণু, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ হবে।

এদিন হিন্দুদের ভগবদ গীতা, মুসলিমদের পবিত্র কোরান, খ্রিস্টানদের বাইবেল, এবং শিখদের গুরু গ্রন্থ সাহিব-সহ একাধিক ধর্মগ্রন্থ তুলে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে। বইগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল ব্যাখ্যামূলক ছোট পুস্তিকাও, যাতে ধর্মের গভীর তাৎপর্য শিশুরা সহজে বুঝতে পারে।

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল একদম নির্জন, নিঃশব্দে পবিত্র। ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহ নিয়ে বই গ্রহণ করেছে এবং কেউ কেউ তা সঙ্গে সঙ্গে উল্টেও দেখেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বলেছেন, এমন উদ্যোগ আগেও দেখা যায়নি। পড়ুয়ারা যদি সব ধর্মের মূল দর্শনকে বুঝে, তবে ভবিষ্যতে তারা হবে আরও মানবিক, সহনশীল ও ন্যায়ের পথে চলার যোগ্য নাগরিক।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরস্বতী ভাণ্ডার যেন শুধু বই বিতরণ করেনি, সেই সঙ্গে ধর্মকে ভালবাসা, সহমর্মিতা আর সহাবস্থানের ভাষায় কিশোর মনে প্রতিষ্ঠিত করার এক সাহসী প্রয়াস করেছে। এই উদ্যোগ হয়তো ছোট পরিসরে শুরু, কিন্তু সমাজে তার প্রতিধ্বনি বহু দূর গড়াতে পারে, এমনটাই মনে করছেন সকলেই।


```