স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী রজব আলির বাড়ি সিঙ্গুরের পায়ড়াউড়া গ্রামের। দাম্পত্য কলহ চলছিল বহুদিন ধরে। প্রায় ১৫ দিন আগে রজব কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন।

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে বানানো)
শেষ আপডেট: 24 August 2025 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে যেতে হবে, তাই খুন করে যাওয়াই ভাল। এই মানসিকতা থেকে স্ত্রীকে পিটিয়ে খুন করলেন হুগলির এক ব্যক্তি। ঘটনা দাদপুরের বিলাতপুর এলাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী রজব আলির বাড়ি সিঙ্গুরের পায়ড়াউড়া গ্রামের। দাম্পত্য কলহ চলছিল বহুদিন ধরে। প্রায় ১৫ দিন আগে রজব কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন। তারপরেই মনজুরা দুই সন্তানকে নিয়ে ভদ্রেশ্বরের ন’পাড়া বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বধূ নির্যাতনের অভিযোগে ভদ্রেশ্বর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।
এরপর রজব স্ত্রীকে ফোন করে সংসার টিকিয়ে রাখার আশ্বাস দেন ফলে বিশ্বাস করে মনজুরা ফের শ্বশুরবাড়ি ফিরে যান। কিন্তু কয়েকদিন আগেই ভদ্রেশ্বর থানার অন্তর্গত শ্বেতপুর ফাঁড়ির পুলিশ রজবকে ডেকে পাঠায় ও শাসানি দেয়। সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্ত্রীকে ফোন করে রজব বলেন, 'তোকে মারব, তারপর জেলে যাব।'
ভয়ে আতঙ্কিত মনজুরা তখন প্রতিবেশী এক মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে দুই সন্তানকে বাবার বাড়ি, হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের জেটে গ্রামে পাঠাতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, বিলাতপুরে তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ান রজব। দুই সন্তানকে ওই মহিলা ও রজবের এক বন্ধুর মাধ্যমে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি। মনজুরা পালানোর চেষ্টা করলে পিছন থেকে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। রাস্তাতেই লুটিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
মনজুরার সঙ্গে থাকা মহিলা তড়িঘড়ি ফোনে খবর দেন মৃতার বাবার বাড়িতে। রাতে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
দাদপুর থানার পুলিশ খুনের মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্ত রজব আলি ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।