গ্রেটার নয়ডায় পণের দাবিতে নিকিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা (Noida Dowry Murder)। পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ধরা পড়ল স্বামী বিপিন। নিকির বাবার ক্ষোভ—‘দোষীদের ফাঁসি হোক, বাড়িতে বুলডোজার চলুক’।

ক্ষুব্ধ নিক্কির বাবা।
শেষ আপডেট: 24 August 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো গ্রেটার নয়ডায় পণের দাবিতে স্ত্রী নিক্কিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার (Noida Dowry Death) মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী বিপিন পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালাতে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এর পরেই তার পায়ে গুলি করে ধরা হয়েছে (Noida cops shoot dowry death accused in leg)। এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিক্কির বাবা। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ ঠিক করেছে। দোষীরাই তো পালাতে চায়, আর বিপিন দোষী বলেই পালানোর চেষ্টা করেছে।”
বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হন নিক্কি। অভিযোগ, তাকে চুল ধরে টেনে আনা হয়, মারধর করা হয়, তারপর দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিক্কির ছোট ছেলের চোখের সামনে ঘটে। এমনকি নিক্কির দিদিও ছিলেন, যিনি একই পরিবারে বিবাহিত, সম্পর্কে নিক্কির বড় জা।
জানা গেছে, বিয়ের সময় থেকেই দফায় দফায় চাহিদা পূরণ করেছিল নিকি ও কাঞ্চনের পরিবার । ২০১৬ সালে বিয়ের সময় উপহার দেওয়া হয়েছিল টপ মডেলের স্করপিও গাড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দাবি দিন দিন বাড়ছিল। নিক্কির ভাই রোহিতের অভিযোগ, দু’জন জামাইবাবুরই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং তার জেরেই সীমাহীন অত্যাচার। তিনি বলেন, 'বিয়ের ছ'মাস যেতে না যেতেই অত্যাচার শুরু হয়। লাফিয়ে বাড়তে থাকে টাকার অঙ্ক।'
নিক্কির বাবাও বলেন, 'প্রথমে স্করপিও গাড়ি চাইল, দিলাম। পরে বুলেট মোটরবাইক চাইল, সেটাও দিলাম। কিন্তু আমার মেয়েকে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি মার্সিডিজ গাড়িও চাইছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'এটা যোগীজির সরকার। অপরাধীদের এনকাউন্টার করে ধরতে হবে। তাদের বাড়িতে বুলডোজার চালানো হোক। না হলে আমি অনশন শুরু করব।'
এদিন সকালে তাঁর এই কথার পরেই ঘটে যায় বিপিনের পালাতে চাওয়া এবং গুলি করে ধরার ঘটনা।
নিক্কির বাবা আরও বলেন, 'এরা জানতও না যে যার গায়ে আগুন দিচ্ছে সে-ও কারও মেয়ে। আমরা কষ্ট করে মানুষ করেছি, বিয়ে দিয়েছি, আর ওরা এভাবে পুড়িয়ে মারল! এওদের ফাঁসি হওয়া উচিত।'
ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নিক্কিকে চুল ধরে টানছে স্বামী বিপিন এবং আর এক মহিলা। বিপিনের গায়ে রক্তের দাগ স্পষ্ট। অন্য এক ক্লিপে দেখা যায়, আগুনে জ্বলন্ত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামছেন তরুণী। তারপর মাটিতে বসে রয়েছেন মারাত্মক দগ্ধ শরীর নিয়ে। কেউ একজন তাঁর গায়ে জল ঢালছে।
গ্রেটার নয়ডার অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পান তাঁরা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নিক্কিকে সাফদরজং হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। সেখানেই নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের পর দিদি কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিপিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। নিক্কির স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং নিকির দিদির স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
নিক্কির বড় জা কাঞ্চন জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের দু’জনকে পণের জন্য নির্যাতন করা হতো। তাদের শ্বশুরবাড়ির দাবি ছিল ৩৬ লাখ টাকা। কাঞ্চনের কথায়, “আমাদের প্রায়ই বলা হতো, বিয়েতে এই জিনিসটা পাওয়া যায়নি, ওইটা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেও আমায় ভোর চারটে পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। তারপর বিকেলে আমার চোখের সামনে আমার ছোট জাকে মারধর করে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি বাঁচানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পারিনি। অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।”
নিক্কির প্রত্যক্ষদর্শী ছেলেও একই দাবি করেছে। সে বলেছে, “মাম্মির ওপর তরল কিছু ঢেলে চড়-থাপ্পড় মেরে লাইটার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।”