মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এত মানুষ মারা গেলেন। এ রকম ঘটনা হলে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রেও যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।”

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 31 January 2026 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরে ওয়াও মোমো (Anandapur Fire) কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে হইচইয়ের অন্ত নেই। এবার ব্যারাকপুরের (Amit Shah in Anandapur) আনন্দপুরীর মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah News) এই আগুন লাগার ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়’ বলে দাবি করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুললেন। একই সঙ্গে দায়ীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির কথাও স্পষ্ট ভাষায় জানালেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য, আনন্দপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ। এত বড় ঘটনা সত্ত্বেও প্রকৃত দোষীদের ধরা হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোমো কারখানার মালিক কার ঘনিষ্ঠ, সেখানে কারা টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, এমন একাধিক প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বিমানে সফর করলেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি।
মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এত মানুষ মারা গেলেন। এ রকম ঘটনা হলে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রেও যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।” তাঁর প্রশ্ন, এই ঘটনায় রাজনীতি কেন করা হচ্ছে? লজ্জা পাওয়া উচিত।
অমিত শাহ আরও জানান, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীরা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগও করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
তাঁর বক্তৃতায় অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। শাহের দাবি, জলাজমির উপর অবৈধভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল। বাইরে থেকে কারখানাটি কেন বন্ধ ছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকরা আগুনে পুড়ে মারা গেলেও বাইরে বেরোতে পারেননি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোকজন শামিল। যদি পর্দা দিতে চান, দিন। এপ্রিলের পর বিজেপি সরকার আসবে। তখন এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীদের খুঁজে খুঁজে জেলে পাঠাবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠে অনুষ্ঠিত অমিত শাহের এই কর্মী সম্মেলনে বনগাঁ, বসিরহাট, বারাসত ও ব্যারাকপুর—এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, সেখান থেকে কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে শাহ রওনা দেবেন বাগডোগরার উদ্দেশে। বিকেলে এয়ারফোর্স ময়দানে আরও একটি কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। ওই সভায় শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার—এই পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীদের উপস্থিত থাকার কথা। সভা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বাগডোগরা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।