আগেই বলেছিলেন—“তৃণমূলে আর নয়। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন দল গড়ব।”

হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 19 November 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলীয় নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আগেই। সেই পথেই আরও একধাপ এগোলেন ভরতপুরের তৃণমূল সাংসদ হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানিয়ে দিলেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের (December 6, Babri Masjid) বার্ষিকী উপলক্ষে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে তৃণমূলের আয়োজিত সংহতি দিবসের জমায়েতে তিনি কোনও ভাবেই যোগ দেবেন না।
সেই দিনই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে আগেই ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকীকেও। বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এর মধ্যেই এসআইআর বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি। সব মিলিয়ে এবারে দলের যুব, ছাত্র, সংখ্যালঘু সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনকে দায়িত্ব দিয়ে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা নিয়েছে দল। কিন্তু ঠিক সেই দিনেই দলের ডাকে সাড়া না দিয়ে হুমায়ুনের বিকল্প কর্মসূচি ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
যদিও এসব নিয়ে বিচলিত নন ভরতপুরের সাংসদ। আগেই বলেছিলেন—“তৃণমূলে আর নয়। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন দল গড়ব।”
এ দিন ফের বললেন, “আগে থেকেই পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। ১৯৯২ সালে আমাদের বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে আমরা কালা দিবস হিসেবে পালন করি। ঠিক করেছি, মুর্শিদাবাদেই বাবরি মসজিদ গড়ে তোলা হবে। একটি ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি হবে। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল বিধায়ক হিসাবে নয়, একজন সংখ্যালঘু মানুষ হিসেবে এই কাজ করতে চান। “এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই”—জানান হুমায়ুন।
এদিকে দলের বিরুদ্ধে লাগাতার মন্তব্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি তৃণমূল? সূত্রের খবর, জেলার কিছু নেতা তাঁকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি তুললেও কালীঘাটের অবস্থান একেবারেই আলাদা—দল হুমায়ুনকে বহিষ্কার করবে না, তাঁর বক্তব্যকেও গুরুত্ব দেবে না। তাদের বক্তব্য, “উনি নিজে বেরোতে চাইলে বেরোতে পারেন।”
রাজনৈতিক মহলে তাই এখন কৌতূহল একটাই, হুমায়ুন কি সত্যিই তৃণমূল থেকে ‘স্বেচ্ছা-বহিষ্কারের’ পথেই হাঁটছেন?