হুমায়ুনের দাবি, ইউসুফ পাঠান জয়ী হওয়ার পর নিজের এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সাধারণ মানুষের সমস্যায় তাঁকে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, একজন জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ভেবে মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 13 February 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। অনুতাপের সুরে তিনি স্বীকার করলেন, ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) জেতানো ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিলেন, সুযোগ এলে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chaudhuri) সঙ্গে আবারও সমঝোতায় ফিরতে পারেন তিনি।
হুমায়ুনের দাবি, ইউসুফ পাঠান জয়ী হওয়ার পর নিজের এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সাধারণ মানুষের সমস্যায় তাঁকে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, একজন জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ভেবে মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এমনকি অধীর চৌধুরীকে হারানোকে তিনি নিজের এবং মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) মানুষের ভুল বলেও মন্তব্য করেন।
২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের (Loksabha Elections 2029) প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুনের ঘোষণা, ওই নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানকে পরাজিত করে ফের অধীররঞ্জন চৌধুরীকে জেতানোই হবে লক্ষ্য। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষের সুরে এও বলেন, ''তৃণমূলের যুবরাজ বা নেত্রীর ক্ষমতা থাকলে তা রুখে দেখাক।''
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর ইতিমধ্যে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে নিজের রাজনৈতিক দল গড়েছেন হুমায়ুন। হলুদ-সবুজ-সাদা পতাকা ও ইস্তেহার প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয় তাঁর লক্ষ্য। তাঁর যুক্তি, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এলে তিনি নিজের ধর্মীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। তাই সরকার গঠনে প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠতেই এই লক্ষ্য।
এদিকে সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন হুমায়ুন। পরে তিনি জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়তে আগ্রহী তিনি। আইএসএফের সঙ্গে আলোচনা এগোনোর দায়িত্ব সিপিএমের হাতেই ছেড়ে দিতে চান বলেও স্পষ্ট করেন।
তবে এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে সিপিএমের তরফে এখনও চূড়ান্ত কোনও অবস্থান জানানো হয়নি। যদিও হুমায়ুন দাবি করেছেন, শুধু মহম্মদ সেলিম নয়, সিপিএমের পলিটব্যুরোর অনেকেই যোগাযোগ করেছে তাঁর সঙ্গে।
বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিপিএমের অন্দরে তৈরি হয়েছে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে দলের সংগঠন নিয়ে নাকি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক নেতা।
অনেকেই মনে করেন, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে বামেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভিত্তি আরও সংকুচিত হতে পারে। ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।