চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, কলেজ চত্বরে দুষ্কৃতীদের হামলায় ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের একাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

অধীররঞ্জন চৌধুরী ও ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 12 February 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজকে (Krishnanath College) বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণাকে ঘিরে অশান্তির আবহ। সেই প্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) চিঠি দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, কলেজ চত্বরে দুষ্কৃতীদের হামলায় ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের একাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
চিঠিতে অধীর জানান, রাজ্য বাজেটে বহরমপুর (Baharampur) তথা মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণনাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব ঘোষণা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের বহুদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই সাফল্য কেবল বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদের নয়, সমগ্র বাংলার শিক্ষাপ্রেমী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
অধীরের দাবি, ঘোষণার পর কলেজের কিছু প্রাক্তন ছাত্র ও অধ্যাপক-সহ অনেকে অভিনন্দন জানাতে ও মিষ্টি বিতরণ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাধা দেয় এবং হামলা চালায়। এতে কয়েক জন গুরুতর জখম হন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়-হিতাকাঙ্ক্ষী ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় মানুষ শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
চিঠিতে অধীর লেখেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হিংসা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্র-শিক্ষকদের উপর আক্রমণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি কেবল ছাত্রদের নয়, সমগ্র বাংলার মানুষের। তাই এই আক্রমণ আসলে বৃহত্তর শিক্ষাঙ্গনের উপরেই আঘাত।
শিক্ষামন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেছেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং অনশনকারীদের ন্যায্য দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে। তাঁর মতে, তা হলে বহরমপুর-সহ রাজ্যের শিক্ষাপ্রেমী মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে।
চিঠির শেষে শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আশাই ব্যক্ত করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।
বস্তুত, ঐতিহাসিক কৃষ্ণনাথ কলেজকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির গোড়া থেকেই জেলার বড় অংশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যাঁর দান করা জমির উপর প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেই রাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হয়। ১৮৫৩ সালে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পরে কৃষ্ণনাথের নাম ‘ব্রাত্য’ রাখা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।