মঙ্গলবার নাজিরাবাদে দাঁড়িয়ে অধীর বলেন, “এখানে যে মানুষ হিসেবে আসবে, তার হৃদয় ভারাক্রান্ত না হয়ে পারে না।"
.jpeg.webp)
নাজিরাবাদে অধীররঞ্জন চৌধুরী
শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের সমস্ত দায় শাসকদল তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসের ঘাড়েই চাপালেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও মুখ্যমন্ত্রী একবারের জন্যও ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।
মঙ্গলবার নাজিরাবাদে দাঁড়িয়ে অধীর বলেন, “এখানে যে মানুষ হিসেবে আসবে, তার হৃদয় ভারাক্রান্ত না হয়ে পারে না। কলকাতার বুকে এত বড় ঘটনা ঘটল, যেখানে ৩২ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি, তার দায় তৃণমূলেরই। তৃণমূলের পূর্ণ মদত ছাড়া এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠতে পারে না।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের প্রশ্রয়েই রাজ্যে নিয়ম না মেনে শিল্প গড়ে ওঠে।
অধীরের প্রশ্ন, এত বড় কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না কেন? প্রশাসন জানে না কারখানার মালিক কে, কোথায় তিনি, কত জন কর্মচারী সেখানে কাজ করতেন— কিছুই স্পষ্ট নয়। জলাভূমিতে কী ভাবে কারখানা তৈরির অনুমতি দেওয়া হল, তারও কোনও ব্যাখ্যা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে অধীর বলেন, “এই পরিস্থিতিতে সবার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালো ব্যাজ পরে নাজিরাবাদে আসা উচিত ছিল। অথচ তিনি দিল্লিতে গিয়ে হাজিরা দিচ্ছেন, সার্কাস করছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।” তাঁর আরও মন্তব্য, কলকাতায় নিজের বাড়ির কয়েক কিলোমিটার দূরে এত বড় দুর্ঘটনায় গরিব শ্রমিকদের মৃত্যু হলেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করে, এই মৃত্যু তাঁকে বিচলিত করে না। অধীর কটাক্ষ করে বলেন “তিনি আজ হৃদয়হীন, বিবেকহীন, এক নিষ্ঠুর শাসক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত।”
আনন্দপুরের এই দুর্ঘটনার আট দিন পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে তারা রাজ্যে আসে এবং বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে। মঙ্গলবার সকালে তারা নাজিরাবাদের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং পরে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করতে পারে বলে খবর।
২৬ জানুয়ারি ভোররাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি ডেকোরেটর সংস্থার গুদাম এবং একটি মোমো কারখানার গুদাম। এই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। ইতিমধ্যেই ২৭ জন নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়েছে থানায়। গতকাল পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকাজ চলেছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোমো সংস্থার কারখানায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ডেকোরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসের বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আগুন নেভানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে একাধিক দেহাংশ উদ্ধার হয়, যেগুলি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না। সেই কারণে দেহাংশগুলির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মাধ্যমেই মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বঙ্গ সফরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোমো সংস্থার আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিলেন।