হুমায়ুন কবীরের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না বলেই প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার নাকি তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে দু’জন সুপারি কিলার নিয়োগ করেছেন।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 10 February 2026 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই লাগাতার হুমকির মুখে রয়েছেন - এমন অভিযোগ তুলে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। সেই মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (JUP) সুপ্রিমো। এবার তাঁর অভিযোগের তীর সরাসরি মুর্শিদাবাদের পুলিশ (Murshidabad Police) প্রশাসনের দিকে। এমনকি জেলা পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে খুনের চক্রান্তের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না বলেই প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার (Murshidabad SP) নাকি তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে দু’জন সুপারি কিলার নিয়োগ করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর গাড়িকে দুর্ঘটনার (Humayun Kabir Car Accident) কবলে ফেলে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হবে - এমনই অভিযোগ করেন তিনি। এই বিষয়ে মুর্শিদাবাদ পুলিশের তরফে কোনও বক্তব্য পেলে প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে।
হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে না পেরে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অপেক্ষা করুন, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করুক। তারপর দেখব মুর্শিদাবাদের এসপি কোথায় থাকেন, লালগোলার ওসি কোথায় থাকেন, প্রশাসনের কর্তারা কোথায় থাকেন।” একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গেও বোঝাপড়ার কথা বলেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীর দাবি করে আসছেন, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়েও তাঁকে ধমকানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) শরণাপন্ন হন হুমায়ুন। আদালত তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছিল।
বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা পেলেও সেই ব্যবস্থা যে পর্যাপ্ত নয়, তা আদালতেই জানিয়ে দিয়েছেন বিধায়ক। হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, তাঁর নিরাপত্তায় মাত্র দু’জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে মোটেই যথেষ্ট নয়। তাঁর আশঙ্কা, যে কোনও মুহূর্তে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে।
এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।