মামলার কেন্দ্রে হাওড়ার বাসিন্দা রানি সোনার। সাঁওতালি মিডিয়াম থেকে পরীক্ষায় বসে তিনি ২০২১ সালের এসএসসি তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে পাঁচটি বছর, এখনও পাননি শিক্ষকতার নিয়োগপত্র।

বিচারপতি অমৃতা সিনহা
শেষ আপডেট: 10 February 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ! ফের প্রশ্নের মুখে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। ২০২১ সালে প্রকাশিত এসএসসি নিয়োগ (SSC Recruitment) পরীক্ষার সফল প্রার্থীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হয়েও এখনও নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় বোর্ডের কাছ থেকে জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি অমৃতা সিনহার (Justice Amrita Sinha) বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, কেন ওই প্রার্থীকে এখনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে বোর্ডকে।
মামলার কেন্দ্রে হাওড়ার বাসিন্দা রানি সোনার। সাঁওতালি মিডিয়াম থেকে পরীক্ষায় বসে তিনি ২০২১ সালের এসএসসি (SSC) তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে পাঁচটি বছর, এখনও পাননি শিক্ষকতার নিয়োগপত্র। এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য দায় কার, কমিশন না বোর্ড - সে প্রশ্নই উঠেছে আদালতে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) এই মামলায় বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে কোনও যোগ্য প্রার্থীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা যায় না। বোর্ডকে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে, কী কারণে এতদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।
এই মামলার শুনানির মধ্যেই উঠে এসেছে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোয় তাঁর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, গত বছর ১৬ জুলাই স্কুলের মধ্যেই তাঁকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। এই বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কাঁথি মহকুমার অতিরিক্ত স্কুল পরিদর্শককে ওই হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বুধবার থেকেই ওই শিক্ষক ফের আগের মতো স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। শিক্ষক স্কুলে যোগদানের পর কোনও রকম সমস্যা বা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষকে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ মার্চ। আদালতের এই নির্দেশে একদিকে যেমন চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীদের আশা জাগছে, তেমনই শিক্ষা দফতরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।