বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের রাজ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি। তাই এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। সূত্রের খবর, ধৃত চিন্ময় মণ্ডল কয়লা পাচার মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ‘লালা’-র ঘনিষ্ঠ বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়খণ্ড–আসানসোল কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smuggle Scam) প্রথমবার কোনও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED Arrest)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েছেন দুই কয়লা ব্যবসায়ী (Businessmen Arrest) - কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডল।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে অসহযোগিতা এবং বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সোমবার গভীর রাতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে ফের রাজ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি। তাই এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। সূত্রের খবর, ধৃত চিন্ময় মণ্ডল কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggle Scam) অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ‘লালা’-র ঘনিষ্ঠ বলে তদন্তকারীদের ধারণা। অন্যদিকে, কিরণ খাঁ এক সময় কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজেকে কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন বলে দাবি ইডির।
সোমবার ইডি দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে কিরণ খাঁ, চিন্ময় মণ্ডল এবং বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই জেরার সময়ই কিরণ ও চিন্ময়ের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তার পরই তাঁদের গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়লা পাচারের টাকার লেনদেন, সেই অর্থ কার কার হাতে পৌঁছেছে এবং গোটা নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করত - এই সব তথ্য জেরার মাধ্যমে সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন ইডি আধিকারিকরা।
এই মামলার সূত্র ধরেই সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। চলতি মাসের শুরুতেই আসানসোলের রানিগঞ্জ, জামুরিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। একাধিক কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। জামুরিয়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়ির গুদামঘর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেদিনই বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। সেই ঘটনার রেশ ধরেই সোমবার তাঁকে তলব করা হয়। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডলকেও।
এর আগেও এই কয়লা পাচার মামলায় ইডির ভূমিকা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পুরনো একটি মামলার সূত্রে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো নিয়ে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তার পর কলকাতায় এসে ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। কয়লা, বালি-সহ একাধিক ‘হেভিওয়েট’ মামলার অগ্রগতি নিয়েই ওই বৈঠক হয় বলে সূত্রের খবর।
তার পর থেকেই কয়লা পাচার মামলার তদন্তে গতি বেড়েছে। গত কয়েক দিনে একাধিক ব্যবসায়ীকে জেরা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই দুই কয়লা ব্যবসায়ীর গ্রেফতারিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইডির দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে কয়লা পাচার চক্রের আর্থিক রূপরেখা ও রাজনৈতিক-প্রশাসনিক যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।