ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় যে প্রোটেকশন মানির (Protection Money) লেনদেন হয়েছিল তার সঙ্গে যোগ রয়েছে মনোরঞ্জন মণ্ডলের। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের টাকা পাচার করতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন তিনিও।

শেষ আপডেট: 9 February 2026 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smuggling case) চলতি মাসের ৩ তারিখে বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি (ED Raid in Bengal)। সেই মামলায় আজ তাঁকে তলব (ED summon) করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সঙ্গে লালা-ঘনিষ্ঠ চিন্ময় মণ্ডলকেও ডাকা হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, এই চিন্ময় মণ্ডল কয়লাপাচার মামলায় অন্যতম মাথা ছিলেন।
কয়লা মামলায় যাবতীয় নথি ঘেঁটে যে ৯ জনের নাম উঠে আসে, তাঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল।
কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?
ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় যে প্রোটেকশন মানির (Protection Money) লেনদেন হয়েছিল তার সঙ্গে যোগ রয়েছে মনোরঞ্জন মণ্ডলের। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের টাকা পাচার করতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন তিনিও।
দুর্নীতিকে কেন্দ্র করেই এই মনোরঞ্জন মণ্ডলের এক চাঞ্চল্যকর অতীতও রয়েছে। ২০২৪ সালেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল, কয়লা পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কড়া বার্তার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
২০২৪-এ নবান্নের এক বৈঠকে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, 'কয়লা পাচার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ সিআইএসএফ এবং পুলিশের একাংশ টাকা খেয়ে কয়লা পাচারে মদত দিচ্ছে।' তিনি কড়া ভাষায় বলেছিলেন, 'আমি এটা বরদাস্ত করব না।' এরপরই বারাবনি থানার তৎকালীন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল।
ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েকমাসে একাধিক অভিযান এবং বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে কয়লা পাচার মামলায় (Coal Scam Case) কয়েকজনের ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। এখনও পর্যন্ত খবর, ৯ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
দু'মাস আগে ইডি অভিযানে যে ডিজিটাল প্রমাণ (Digital Evidence) পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মোবাইল ফোন, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট-সহ আরও একাধিক ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করে। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম। এছাড়াও তদন্তে চিন্ময় মণ্ডলের পাশাপাশি কিরণ খান, শেখ আখতার, প্রবীর দত্ত, অমিত বনশল, মির্জা নিজামুদ্দিনের নামও রয়েছে।