ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া ঢেঁকিকেই আবার ফিরিয়ে আনলেন হাওড়ার বাসিন্দা নবকুমার মান্না।

শেষ আপডেট: 12 January 2026 19:26
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: এক সময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ঢেঁকি (Dhenki) ছিল অপরিহার্য। তালে তালে ঢেঁকিতে পা ফেলে ধান ভাঙতেন গ্রামের মহিলারা, পৌষ পার্বণে চাল গুঁড়ো করে তৈরি হত পিঠে-পুলি। সেই সঙ্গে মহিলাদের গলায় উঠত গানের সুর। ঢেঁকির গান। যা কিনা ঘুচিয়ে দিত তাঁদের শ্রমের কষ্ট।
ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া ঢেঁকিকেই আবার ফিরিয়ে আনলেন হাওড়ার বাসিন্দা নবকুমার মান্না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির (AI) ছোঁয়ায় তিনি তৈরি করেছেন এমন এক ঢেঁকি, যা নিজেই ধান পিষছে।
নবকুমারবাবু জানান, এই ভাবনার সূত্রপাত তাঁর মেয়ের কথায়। কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকা মেয়ে তাঁকে জানান, ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল স্বাস্থ্যকর। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে ঢেঁকি ছাটা চালের চাহিদা বাড়বে—এই ধারণা থেকেই যন্ত্রচালিত ঢেঁকি তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। আর তার বাবার হাত ধরে সেই ভাবনাই বাস্তব রূপ পায়।
ইউটিউব ঘেঁটে বাঁকুড়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (Bankura Engineering College) চেয়ারম্যান শশধরবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন নবকুমার মান্না। সেখানে দেখা একটি মডেল দেখে নিজের মতো করে স্কেচ তৈরি করে ঢেঁকিকে নতুন রূপ দেন। পরবর্তীতে ওই কলেজ থেকে কয়েকটি ঢেঁকির বরাতও পান তিনি।
এর আগেও লেদ মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির কাজ করতেন নবকুমারবাবু। সেটাই ছিল তাঁর মূল পেশা। প্রায় এক বছর আগে তিনি পুরোপুরি মন দেন এই আধুনিক ঢেঁকি তৈরিতে। ইতিমধ্যেই ছয় সেট অর্থাৎ মোট বারোটি ঢেঁকি তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। অর্ডার পেয়ে সেই সব ঢেঁকি পাঠিয়ে দিয়েছেন কুচবিহার, আসানসোল, দুর্গাপুর এমনকী অসমেও।
ভবিষ্যতে ঢেঁকি ছাটা চাল বাজারজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান নবকুমারবাবু।
শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে নবকুমারবাবু বলেন, "উদয়নারায়ণপুরের গ্রামে ছোটবেলায় আমি ঢেঁকি দেখেই বড় হয়েছি। তাতেই মনে হল আবার যদি পুরনো দিন ফিরিয়ে আনা যায়, তো বেশ হয়। মেয়ের কথায় তাই নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করি। ঢেঁকিকে নতুন রূপে ফেরতে পেরে আমি দারুণ খুশি।"