রেল পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে—এই চক্রে কোনও অফিসার জড়িত কি না। হাওড়া রেলের এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 September 2025 10:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার ডিআরএম অফিসেই চলছিল অবৈধ চাকরি বিতরণের কারবার (Howrah DRM office job fraud cycle)! রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি টাকার লেনদেন করা হতো। এমনকি ভুয়ো নিয়োগপত্র ছাড়াও রাখা হয়েছিল জাল হাজিরা খাতা, নকল মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন আধিকারিকের নকল স্ট্যাম্প। অন্যতম অভিযুক্ত তীর্থঙ্কর মিত্রকে জেরা করেই এই তথ্য জানতে পেরেছে রেল পুলিশ।
এদিকে, ধৃত তীর্থঙ্কর মিত্রের মা রেলের কর্মাশিয়াল বিভাগে কাজ করতেন। সেই পরিচিতির জোরেই তীর্থঙ্কর অফিসে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন এবং রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পোস্টিং, গ্রুপ ডি সহ বিভিন্ন পদের নিয়োগপত্র কারা জারি করে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পান। তদন্তকারীদের অনুমান, সেলস ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে তীর্থঙ্কর চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেন।
এক শিক্ষকের মাধ্যমে চাকরীর পরীক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলে তীর্থঙ্কর। সূত্রের দাবি, সেখানে আসা প্রার্থীদের মধ্য থেকে থেকে কিছু জনকে টার্গেট করা হতো এবং নিশ্চিত চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। কেউ চাইলে ১০-১২ লক্ষ টাকা খরচ করে আবেদন করতে হতো। তদন্তে নেমে পুলিশ এও জানতে পারে, গত জুন মাসে হাওড়ার ডিআরএম অফিসে প্রার্থী হাজির হলে তীর্থঙ্কর তাদের বায়োডেটা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও মেডিকেল টেস্ট করাতেন, তারপর নিজে দাঁড়িয়ে হাজিরা খাতায় সই করান।
আরপিএফের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তীর্থঙ্করের সঙ্গে একাধিক রেল অফিসারের পরিচয় থাকায় সে সহজেই অফিসে প্রবেশ করত। ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে, অফিসে বসেই সে প্রতারণার সব কাজ চালাত। এখন পর্যন্ত তীর্থঙ্করের কাছ থেকে ১০টির বেশি ভুয়ো নিয়োগপত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রেল পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে—এই চক্রে কোনও অফিসার জড়িত কি না। হাওড়া রেলের এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।