শাস্ত্র মতে, অষ্টমীর শেষ দণ্ড আর নবমীর প্রথম দণ্ড মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটই হল সেই সন্ধিক্ষণ। বিশ্বাস, এই সময়েই দেবীর আরাধনায় সবচেয়ে বেশি ফল মেলে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 September 2025 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর (Durgapuja) এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সন্ধিপুজো (Sandhi Puja, Ashtami)। শাস্ত্র মতে, অষ্টমীর শেষ দণ্ড আর নবমীর প্রথম দণ্ড মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটই হল সেই সন্ধিক্ষণ। বিশ্বাস, এই সময়েই দেবীর আরাধনায় সবচেয়ে বেশি ফল মেলে। তাই তো সন্ধিপুজোয় ভক্তরা দেবীকে নিবেদন করেন ১০৮টি লালপদ্ম আর জ্বালান ১০৮টি প্রদীপ।
এই সংখ্যাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা কাহিনি ও দার্শনিক ব্যাখ্যা। পুরাণে বলা হয়, একবার পুজোর সময় একটি পদ্ম কম পড়ায় ভক্ত রামচন্দ্র নিজের চোখ দেবীকে নিবেদন করতে উদ্যত হন। দেবী তখনই তাঁর ভক্তিকে পরীক্ষা করে আশীর্বাদ দেন। সেখান থেকেই ১০৮ পদ্মের মাহাত্ম্য।
পুরাণ মতে, হিন্দুধর্মে ইষ্টদেবতার নামজপেও ১০৮ সংখ্যার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নিত্য আহ্নিকের সময় ১০৮ বার জপ করার নিয়ম আছে। ঠিক সেই মতোই সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম দিয়ে আহ্বান, আর ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার ঘুচিয়ে জ্ঞানের আলো কামনা করা হয়। দীপশিখা হৃদয়কে উদ্ভাসিত করে, অপবিত্রতাকে দূর করে।
কিন্তু কেন ১০৮? পুরাণের ব্যাখ্যা, একজন সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ২১,৬০০ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। এটিকে ১০০ দিয়ে ভাগ করলে হয় ২১৬। আবার সেটিকে ২ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ১০৮। তাই ১০৮-ই মানুষের জীবনচক্র ও সাধনার সঙ্গে যুক্ত এক পূর্ণসংখ্যা।
তাছাড়া মেধসমুনি বৈশ্য সমাধিকে বলেছিলেন দিনে দু’বার ১০৮ বার দুর্গামন্ত্র জপ করতে। সমাধি সেই জপ বাড়াতে বাড়াতে একদিন পৌঁছে যান ২১,৬০০ বার মন্ত্রোচ্চারণে—যার ফলে তাঁর ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়। সুরথ রাজা পান রাজত্ব, আর বৈশ্য সমাধি পান মোক্ষ।
অতএব, শুধু আচার নয়, ১০৮-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভক্তি, সাধনা, এবং চিরন্তন আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সন্ধিপুজোর ৪৮ মিনিট তাই আজও পুজোর বিশেষ মুহূর্ত।