অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কমিশন যে এনুমারেশন ফর্মের ব্যবস্থা করেছে, সেটি ধাপে ধাপে কীভাবে ফিলআপ বা পূরণ করবেন, জেনে নিন।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 October 2025 19:25
ভোটার তালিকায় (Voter List) কোনও যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না যান, আবার অযোগ্য কেউ যাতে ঢুকে না পড়েন— এই লক্ষ্যেই দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision বা SIR)। সোমবার দুই নির্বাচন কমিশনার (Election Commission) এস এস সান্ধু এবং বিবেক যোশীকে পাশে রেখে এই কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার।
সিইসির কথায়, “বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কেউ একটিও ভুল ধরতে পারেননি। এবার ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সারা দেশজুড়ে চালু করা হবে।”
কখন কী হবে?
কমিশন জানায়, সোমবার রাত ১২টার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, রাত ১২টার পর থেকে নতুন নাম তোলা, সংশোধন বা পরিবর্তনের কাজ বন্ধ থাকবে।
২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এনুমারেশন ফর্ম (সংখ্যা যাচাই সংক্রান্ত ফর্ম) ছাপানোর কাজ এবং সেই দিন থেকেই বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) দের প্রশিক্ষণও শুরু হবে। এই প্রশিক্ষণ পর্ব চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এনুমারেশন ফর্ম। যাঁরা রাজ্যের বাইরে থাকেন বা বিদেশে আছেন, তাঁরা অনলাইনেও ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
৯ ডিসেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ
৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি: খসড়া তালিকা নিয়ে অভিযোগ বা সংশোধনের আবেদন করার সময়সীমা
৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি: অভিযোগ শুনানি ও যাচাই
৭ ফেব্রুয়ারি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
কোন কোন নথির ভিত্তিতে এসআইআর?
১. কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।
২. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি।
৩. জন্ম শংসাপত্র।
৪. পাসপোর্ট।
৫. মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র।
৬. রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র।
৭. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
৮. জাতিগত শংসাপত্র।
৯. জাতীয় নাগরিক রেজিস্টার (যেখানে প্রযোজ্য)।
১০. স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার।
১১. জমি অথবা বাড়ির দলিল।
এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১২ নম্বর নথি হিসাবে আধার কার্ড দেখানো যাবে। তবে তা দেখিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না।
ঘটনা হল, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। জেলায় জেলায় এসআইআর ঘোষণার পর আত্মহত্যার অভিযোগও সামনে আসছে। কিন্তু, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কমিশন যে এনুমারেশন ফর্মের ব্যবস্থা করেছে, সেটি ধাপে ধাপে কীভাবে ফিলআপ বা পূরণ করবেন, জেনে নিন।
এসআইআর-এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার বাড়ি বাড়ি এসে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম দেবেন বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসাররা। সেই ফর্ম পূরণ করে বিএলও-দের কাছেই জমা দিতে হবে ভোটারদের।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজ পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁরা সকলে এনুমারেশন ফর্ম পাবেন। যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম জমা দেবেন, তাঁদের সকলের নাম খসড়া তালিকায় উঠবে।

এই ফর্ম কীভাবে পূরণ করবেন? দেখে নিন...
ধাপ ১: ফর্মের শুরুতেই লেখা থাকছে নাম ও যোগাযোগ নম্বর (Name and Contact No. of BLO)। যদিও এই জায়গাটি কেবল বিএলও-দের জন্য রাখা হয়েছে।
ধাপ ২: Date of Birth (DD/MM/YYYY), অর্থাৎ এখানে ভোটারের জন্মতারিখ, মাস ও সাল লিখতে হবে।
ধাপ ৩: Aadhar No. (Optional) এর যায়গায় ভোটারের আধার কার্ডের নম্বর লিখতে হবে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়। কারণ অপশনাল লেখা আছে। ভোটার চাইলে তা লিখতেও পারেন আবার নাও লিখতে পারেন। তবে ফর্ম পূরণ করছেন যখন লিখে রাখা ভাল।
ধাপ ৪: Mobile no. এর জায়গায় ভোটার তাঁর সচল মোবাইল নম্বরটি লিখবেন।
ধাপ ৫: Father's/ Guardian's Name এর জায়গায় ভোটার তাঁর বাবা অথবা অভিভাবকের পুরো নাম লিখবেন।
ধাপ ৬: Father's/ Guardian's Epic No (If Available). এর জায়গায় ভোটার তাঁর বাবা অথবা অভিভাবকের যদি ভোটার কার্ড থাকে তাহলে তার নম্বর লিখবেন।
ধাপ ৭: Mother's Name-এর জায়গায় ভোটার তাঁর মায়ের পুরো নাম লিখবেন।
ধাপ ৮: Mother's Epic No (If Available)-এর জায়গায় ভোটারকে তাঁর মায়ের ভোটার কার্ডের নম্বর লিখতে হবে, যদি ভোটার কার্ড থাকে।
ধাপ ৯: Spouse 's Name (If Applicable)-এর জায়গায় ভোটারকে তাঁর স্বামী অথবা স্ত্রীর নাম লিখতে হবে, যদি প্রয়োজন পড়ে।
এরপরে ফর্মে লেখা থাকবে Details of Elector in the Electoral Roll of the last SIR। অর্থাৎ, শেষ এসআইআর বা ২০০২ সালে যে সংশোধন হয়েছিল, তাতে ভোটারের ক্রমিক নং-সহ বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ধাপ ১: Elector Name-এর জায়গায় ভোটার তাঁর নাম লিখবেন।
ধাপ ২: EPIC No. (if available)-এর জায়গায় ভোটার কার্ডের নম্বর লিখতে হবে (যদি থাকে)।
ধাপ ৩: Relative's Name-এর জায়গায় নিজের পরিবারেরই কোনও আত্মীয়ের নাম লিখতে হবে।
ধাপ ৪: Relationship-এর জায়গায় ওই আত্মীয় সম্পর্কে আপনার কে হন, তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ধাপ ৫: District-এর ঘরে লিখতে হবে ভোটার কোন জেলার বাসিন্দা।
ধাপ ৬: State-এর জায়গায় লিখতে হবে ভোটার কোন রাজ্যের বাসিন্দা।
ধাপ ৭: AC Name-এর জায়গায় ভোটারের তৎকালীন বিধানসভা কেন্দ্রের নাম লিখতে হবে।
অন্যদিকে, এই কলামের সব তথ্য দেওয়ার পরে পাধের কলামে চলে আসতে হবে। সেখানে, থাকছে আপনি যে আত্মীয়ের নাম বাম দিকের কলামে লিখেছেন, তাঁর বিস্তারিত তথ্য।
ধাপ ১: Name-এর জায়গায় পরিবারের ওই সদস্যের ভোটার কার্ডে যা নাম আছে, তা লিখতে হবে।
ধাপ ২: EPIC no. (If available)-এর জায়গায় লিখতে হবে পরিবারের ওই সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, যদি থাকে।
ধাপ ৩: Relative's Name-এর জায়াগায় লিখতে হবে পরিবারের ওই সদস্যের নাম।
ধাপ ৪: Relationship-এর জায়গায় লিখতে হবে আপনি সম্পর্কে ওই সদস্যের কে হন।
ধাপ ৫: District-এর ঘরে লিখতে হবে সদস্যের জেলার নাম।
ধাপ ৬: State-এর ঘরে লিখতে হবে সদস্যের রাজ্যের নাম।
ধাপ ৭: AC Name-এর জায়গায় লিখতে হবে সদস্যের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম।
পাশাপাশি থাকা ভোটার ও তাঁর সদস্যের দু'টি কলামের নীচেই লিখতে হবে দু'জনের বিধানসভা কেন্দ্রের নম্বর, পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর বা ক্রমিক সংখ্যা।
এই এনুমেরেশন ফর্মের একদম নীচে ডানদিকে থাকছে ভোটারের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের সইয়ের জায়গা। সেখানে ভোটারকে সই করে ফর্ম ফিলআপের তারিখ লিখে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আঙুলের ছাপও দিতে পারবেন স্বাক্ষরকারী।
বাকি কাজ, বিএলও-দের। তাঁরা ফর্মটিতে সই করে জমা নিয়ে নেবেন। যদি ফর্ম ফিলআপে কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তাঁরাই ভোটারদের বুঝিয়ে দেবেন, কীভাবে কী করতে হবে।
কাজেই, ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে, সঠিকভাবে ধাপে ধাপে ফর্মপূরণ করুন। প্রয়োজনে বিএলও-দের সাহায্য নিন।