বাংলায় শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন অভিযান (SIR)। কমিশনের অনুমান, প্রায় ৩৫-৪০% ভোটারকে নোটিস পাঠানো হতে পারে। কারা পাবেন নোটিস, কী কী নথি লাগবে, আর বাদ পড়লে কী করবেন—সব জানুন এক ক্লিকে।
.jpeg.webp)
নতুন ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতেই সারা বাংলায় উদ্বেগ শুরু হয়েছে।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 21:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতেই সারা বাংলায় উদ্বেগ শুরু হয়েছে! নির্বাচন কমিশনের বিশেষ উদ্যোগে চালু হয়েছে এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই প্রক্রিয়ায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার তথা আড়াই থেকে ৩ কোটি ভোটার নোটিস পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের কী করতে হবে, কী ধরনের নথি রেডি (SIR list of documents) রাখতে হবে, এই প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয় সেটিই।
কী হচ্ছে এখন?
গত মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফর্ম বিতরণ ও ভর্তি করার সময়সীমা ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে খসড়া ভোটার তালিকা। কমিশন জানিয়েছে, “কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।” যাঁদের নাম বা পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলানো হবে।
তাহলে কারা পাবেন নোটিস?
যাঁদের নাম বা পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশন নোটিস পাঠাবে। এই সংখ্যা বর্তমান মোট ভোটারের ৩৫–৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাংলার মোট ভোটারসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ। অর্থাৎ, ২.৫ থেকে ৩ কোটি ভোটার নোটিস পেতে পারেন!
এরপর কী করবেন?
৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জমা ও শুনানির সুযোগ থাকবে। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রমাণপত্রসহ ফর্ম জমা দিতে হবে। শুনানি হবে তিন ধাপে—ইআরও, জেলা শাসক এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক স্তরে। যাঁরা সঠিক নথি দিতে পারবেন না, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
বিকল্প নথি কী কী?
যাঁদের জন্ম ১ জুলাই ১৯৮৭-এর আগে, অথচ ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, তাঁরা কমিশনের নির্দিষ্ট ১১টি নথির (যেমন রেশন কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদি) যেকোনও একটি ও রঙিন ছবি জমা দিতে পারবেন।
কেন এত আলোড়ন?
২০০২ সালের পর জনসংখ্যা, ঠিকানা, ও বসবাসের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অনেকের মৃত্যু হলেও নাম রয়ে গিয়েছে, আবার অনুপ্রবেশকারীর নামও যোগ হয়েছে। ফলে এবার ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করতে গিয়ে বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা।
নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “কোনও ভোটারকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ থাকবে।” প্রতিটি বুথে ইউনিক এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হচ্ছে। ১,২০০ ভোটারের বেশি নয় এক বুথে—প্রয়োজনে নতুন বুথ তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলিকেও প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত ভোটাররা বাদ না যান।