এসআইআরের পুরো প্রক্রিয়া কী তা নির্বাচন কমিশন স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাবে না। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে এনুমারেশন ফর্ম নিয়েও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 16:48
বিহারের এসআইআর (SIR) নিয়ে যখন দেশে আলোচনা চলছিল তখন থেকেই বাংলা নিয়ে ছিল কৌতূহল। অনেকদিন ধরেই জল্পনা ছড়িয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR in West Bengal) হবে। রাজ্যের শাসক দল যতই বিরোধিতা করুক, জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) নির্ধারিত সময়ই এসআইআর ঘোষণা করেছে রাজ্যে। গত মঙ্গলবার থেকে সেই মতো কাজও শুরু হয়েছে। আর এই আবহেই আবার একই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে - নথি কি দেখাতে হবে?
এসআইআরের পুরো প্রক্রিয়া কী তা নির্বাচন কমিশন স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাবে না। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) নিয়েও। এই ফর্ম ফিল-আপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা শুরু হবে আগামী ৪ তারিখ থেকে যখন বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাবেন।
কখন নথি দেখাতে হবে?
এসআইআরের জন্য কী কী নথি বৈধ তা আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে ১১টি নথির কথা বলা হয়েছিল, তারপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধার কার্ডও মান্যতা পেয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করবেন বিএলওরা (BLO)। ভোটারদের নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং ফর্ম ফিল-আপ করার কাজ চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় কাউকে নথি দেখাতে হবে না। যারা যারা এই এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ (Form Fill-up) করবেন তাদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় উঠে যাবে। এক কথায়, খসড়া ভোটার তালিকায় (Draft Voter List) নাম তুলতে গেলে এই ফর্ম ফিল-আপ গুরুত্বপূর্ণ।
কাদের নথি দেখাতে হবে?
৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা (Draft Voter List) প্রকাশ পাবে। ঠিক এর পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ জমা নেওয়ার পর্ব। এই সময় যারা কোনও কারণবশত ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন না, বা যাদের বাড়িতে গিয়ে বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাবে না অথবা অন্য কোনও কারণে এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ হবে না, তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইআরও ও এইআরওর নেতৃত্বে এই শুনানি সম্পন্ন হবে। আপিলের সুযোগও থাকছে - প্রথমে জেলা শাসকের কাছে, পরের ধাপে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে।
এই প্রক্রিয়াটিতেই নথি দেখানোর উপক্রম আসবে। কারণ খসড়া তালিকায় নাম ওঠার পর ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ব্যক্তির নাম বা তাঁর পরিবারের সদস্যর সম্পর্ক 'ম্যাচিং' করা হবে। যাদের 'ম্যাচিং' হয়ে যাবে তাঁদের না নোটিস দেওয়া হবে, না নথি চাওয়া হবে। কিন্তু যাদের নাম বা যাদের পরিবারের কোনও সদস্যের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকবে না, তাঁদেরই নোটিস পাঠিয়ে উপযুক্ত নথি দেখতে চাইবেন নির্বাচনী আধিকারিকরা।
৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে শুনানি হবে। যাদের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফতরে এসে তখন প্রামাণ্য নথি দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে। তিন ধাপের শুনানির পরও যারা প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উঠবে না।
কমিশনের অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। ফলে এই সংখ্যক ভোটারকেই ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নোটিস দেওয়া হতে পারে।