তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে এসআইআরের কাজে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আবার এর কাজের নিরিখেও কিন্তু পশ্চিমবঙ্গই অনেক এগিয়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 21:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজ প্রায় শেষ মুহূর্তে। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ফিল-আপ হওয়া এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে যাবে বলেই আশা করছে নির্বাচন কমিশন। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় এখনও পর্যন্ত ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ, ৬৮ হাজার ৭৫৯ হাজার এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলি সম্পন্ন হয়েছে। শতকরার হিসেবে ৯৯.৭৮ শতাংশ। আর ডিজিটাইজড হয়েছে ৬ কোটির বেশি।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বুধবার পর্যন্ত ৬ কোটি ১ লক্ষ ৩৬৯টি এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজড (Enumeration Form Digitised) অর্থাৎ আপলোড হয়ে গেছে। শতকরার হিসেবে সেটি ৭৮.৪২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ ১২ রাজ্য একসঙ্গে এসআইআরের কাজ চলছে। এই হিসেবে বাংলা বাকি অনেক রাজ্যের থেকে অনেকটাই এগিয়ে।
আন্দামানে ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে ৬৭.৩৯ শতাংশ, ছত্তীসগড়ে ৬৫.৩৬ শতাংশ, গুজরাটে ৭৩.৩৭ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ৪১.৪৪ শতাংশ, কেরলে মাত্র ৪৬.১৪ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে। বাংলার থেকে এগিয়ে রয়েছে গোয়া (৮৬.৭৭ শতাংশ), লাক্ষাদীপ (৯৯.৯১ শতাংশ), মধ্যপ্রদেশ (৭৮.৫০ শতাংশ), রাজস্থান (৮২.৬১ শতাংশ)।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে এসআইআরের (SIR) কাজে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আবার এর কাজের নিরিখেও কিন্তু পশ্চিমবঙ্গই অনেক এগিয়ে। ফর্ম বিলি থেকে শুরু করে ফর্ম সংগ্রহ করা এবং সেই ফর্ম ডিজিটাইজ করা, এই পুরো প্রক্রিয়ায় অন্যতম সেরা কাজ করছে বাংলাই।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সামান্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার্ভার ডাউন (Server Down) হওয়ার সমস্যা। বিভিন্ন ব্লক ও অফিস থেকে জানানো হয়েছে, সার্ভার একাধিকবার কাজ না করায় ফর্ম আপলোড ও ডিজিটাইজেশনের গতি কমে যাচ্ছে। যদিও এই নিয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সিইও দফতর।
জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেটের ধীরগতির (Slow Internet) কারণে কোনও বিএলও যদি ফর্ম (Enumeration Form) আপলোড করতে না পারেন, তবে তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট অ্যাপে নিজের অবস্থান ও সমস্যার তথ্য পাঠাবেন। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়া মাত্রই ইআরও ও এইআরও স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানাবেন। অপারেটররা আশ্বাস দিয়েছে, সেই মুহূর্তেই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, অগ্রগতির তথ্য বিএলও অ্যাপেই রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে।
এই অ্যাপে রয়েছেন সব জেলার ডিইও-রা। ফলে এমন (সার্ভার স্লো ইত্যাদি) সমস্যার অভিযোগ পেলেই ডিইও-রা নিজেরাই টেলিকম অপারেটর সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিইও দফতর থেকে।