হাওড়ার পুইল্যা কিশোর ব্যায়াম সমিতির মাঠে ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ৫১তম ইস্টার্ন পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫। পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের ১৬৫ জন প্রতিযোগীর মধ্য়ে একজন ডাক্তার কার্কি।

শেষ আপডেট: 12 December 2025 14:08
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: হাসপাতালের ইন্ডোরে প্রতিদিন চলে এক অন্য লড়াই। রোগীর হৃদস্পন্দন বাঁচাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া। দৌড়ঝাঁপ, মানসিক চাপ, সব মিলিয়ে যেভাবে কাটে প্রায় ২৪ ঘণ্টা, তা যে কোনও মানুষের ক্লান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই ক্লান্তির ছোঁয়া গায়ে লাগতে দেন না ডাক্তার মোহিত কার্কি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এখন আরএমওর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তবে ঝক্কির পেশা সামলেও ভাললাগার পাওয়ার লিফটিং-এ প্রতিদিন খুঁজে নিচ্ছেন নিজের ভাল থাকার অক্সিজেন।
হাওড়ার পুইল্যা কিশোর ব্যায়াম সমিতির মাঠে ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ৫১তম ইস্টার্ন পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫। পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের ১৬৫ জন প্রতিযোগীর মধ্য়ে একজন ডাক্তার কার্কি। বৃহস্পতিবার পুরুষদের ১২০ কেজি বিভাগে সিনিয়র (ক্লাসিক) বিভাগের প্রতিযোগী হিসেবে রুপো জিতলেন তিনি।
প্রতিযোগিতার মঞ্চে ডাক্তার কার্কির নাম ঘোষণা হওয়ার পর তেমন কোনও শোরগোল পড়েনি। কিন্তু স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে গেল যখন গাউন ছাড়া সেই চিকিৎসক মঞ্চে উঠে স্কোয়াটে তুললেন ২৭৫ কেজি। পরের মুহূর্তে ডেডলিফ্টে তুললেন ২৭০ কেজি। আর বেঞ্চ প্রেসে ১৬২ কেজি। মোট ৭০৭ কেজি ওজন তুলে তিনি শুধু দ্বিতীয় হলেন না, খুলে ফেললেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার দরজাও। করতালিতে তখন ফেটে পড়ছেন উপস্থিত দর্শকরা।
হাসপাতালে রেসিডেন্সিয়াল মেডিক্য়াল অফিসারের দায়িত্ব সামলেও কী করে পাওয়ার লিফিটিং-এ এমন সাফল্য? কী করে পান অনুশীলনের সময়? ডাক্তার কার্কির জবাব, “৮–৯ বছর ধরে পাওয়ার লিফটিং করছি। চাইলেই সময় বের করা যায়।
মোবাইল–টিভিতে সময় নষ্ট না করে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাটা একটু কমিয়ে প্রতিদিন এক-দুই ঘণ্টা শরীরচর্চার সময় ইচ্ছে করলেই বের করা যায়। আমিও সেটাই করি। এখানে যে আনন্দ পাই তা তুলনাহীন।”
একজন চিকিৎসকের মুখে এই কথা যেন পুরো সমাজের জন্য বার্তা। তাঁর কথায়, "স্বাস্থ্য শুধু প্রেসক্রিপশনে নয়, জীবনযাপনের মধ্যে দিয়েই তা শুরু করা দরকার। খেলা জীবনকে অনেক শিক্ষা দেয়। নিয়মিত ওজন তোলা, সেটা যার যেটুকু সামর্থ্য, তা হাড়, পেশী, হার্ট- সবকিছুকেই ভালো রাখে। রোগীদেরও বলি, ব্যায়াম করলে বয়সের সমস্যাগুলোর অনেকটাই কমে।”
হাসপাতালের চেম্বার থেকে ভারোত্তোলনের মঞ্চ, সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ। একদিকে জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে নিজের শক্তি সঞ্চয়। এই দুই জগতকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার মোহিত কার্কি। প্রমাণ করছেন—
ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। ২০২৬ সালের মার্চে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এটাই এখন তাঁর পাখির চোখ। তারপরের লক্ষ্য, এশিয়া ও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। সেই লক্ষ্যেই এখন এগোচ্ছেন ডাক্তার মোহিত কার্কি।