শ্রীভূমির দাবি, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকল্প সম্ভব হয়েছে। ক্লাবের আরও আশা—মেসি সরাসরি না এলেও, বিশ্বকাপজয়ীর সম্মানে গড়া এই বিশালাকৃতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বাংলার সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
.jpeg.webp)
লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 12 December 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার ভিআইপি রোডে বসেতে চলেছে ৭০ ফুট উঁচু, লিওনেল মেসির (Lionel Messi) মূর্তি (Lionel Messi Statue)। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শহরের ফুটবল–উন্মাদনায় জুড়ে গেল নতুন অধ্যায়। কিন্তু শহরে এলেও (messi in Kolkata) এই মূর্তি সরাসরি উদ্বোধন করবেন না মেসি। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা–জটিলতার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে স্থির হয়েছে—আগামিকাল, ১৩ ডিসেম্বর উন্মোচন হবে ভার্চুয়ালি (messi statue Kolkata)।
মূর্তির নির্মাণের দায়িত্বে লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, মাত্র ৪০ দিনে তৈরি হয়েছে গগনচুম্বী এই কাঠামো। শিল্পী মন্টি পাল (Monty Paul) নেতৃত্ব দিয়েছেন গোটা প্রকল্পের। মূর্তিতে দেখা যাচ্ছে মেসির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি। শুধু সে অংশটুকুই প্রায় ৮ ফুট। বিশাল ফাইবারগ্লাসের শরীরকে মজবুত রাখতে পায়ের অংশে লাগানো হয়েছে ২০ টনের লোহার রড।
আগে থেকেই প্রশ্ন উঠছিল—মেসি (Lionel Messi) কি ব্যক্তিগতভাবে এসে উদ্বোধন করবেন? তাঁর সফরসূচিতে (messi in kolkata date) শ্রীভূমি না থাকলেও কলকাতায় যখন আসছেন, তখন বহু সমর্থকের প্রত্যাশা ছিল—মূর্তির সামনে মেসিকে এক মুহূর্তের জন্য দেখা যাবে। যদিও নিরাপত্তা, ভিড় ও আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য চাপ বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন—উদ্বোধন হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই।
শ্রীভূমির দাবি, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকল্প সম্ভব হয়েছে। ক্লাবের আরও আশা—মেসি সরাসরি না এলেও, বিশ্বকাপজয়ীর সম্মানে গড়া এই বিশালাকৃতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বাংলার সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
যাত্রাপথেই বড় বাধা
এই মূর্তি তৈরি যতটা পরিশ্রমসাধ্য ছিল, আরও কঠিন ছিল তা এলাকায় এনে দাঁড় করানো। শ্রীভূমিতে সুজিত বসু নির্দিষ্ট করেছিলেন একটি অস্থায়ী গ্যারেজ। সেখান থেকে ৫ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ও ট্রলি-ট্রাক দিয়ে টেনে আনা হয় পুরো কাঠামো। সরু গলির মাথায় ওভারহেড তার সমস্যা তৈরি করায় কয়েক জায়গায় তা সাময়িকভাবে খুলে ফেলতে হয়। এর আগের দিন পর্যন্ত পৌরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে চলেছে কর্মীদের রাস্তা বাছাই নিয়ে আলোচনা—কোথায় বাধা কম, কোথায় ট্রলি ঘোরানো সম্ভব, কোন পথে ক্রেন প্রবেশ করবে।
প্রতিটি অংশ আলাদা করে জোড়া
মনোযোগ দিয়ে গড়া হয়েছে মূর্তির মুখের অংশ। শিল্পীর দাবি, শুধু এই অংশটুকুই নিখুঁত করতে লেগেছে ১৫ দিন। ২১ ফুটের ধড়, ১৯ ফুটের কোমর থেকে পায়ের অংশ, ১৪ ফুটের হাত—সব আলাদা করে তৈরি করে পরে ভিআইপি রোডের ঘড়িঘর সংলগ্ন চত্বরে জোড়া দেওয়া হয়েছে।