আতঙ্কে রাত নামতেই দরজা বন্ধ করছেন স্থানীয়েরা। পুলিশের টহল বাড়ানো হলেও বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দুষ্কৃতীদের দাপট কবে থামবে?

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের (Malda) কালিয়াচক যেন রক্তাক্ত অধ্যায় লিখছে পরপর তিন দিনে। এবার তৃণমূলের সালিশি সভায় কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কুপিয়ে খুন করা হয় একরামুল শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে। ঘটনায় আহত আরও ৬ জন। এদের মধ্যে বাদশা শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয় রাজনগরে। এসডিপিও-র নেতৃত্বে শুরু হয় তল্লাশি। এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত জেনারুল শেখ-সহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফসলি জমির ওপর দিয়ে গাড়ি যাতায়াতকে কেন্দ্র করে বুধবারই অশান্তি ছড়ায় গ্রামে। সেই গণ্ডগোল মেটাতে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে ডাকা হয় সালিশি সভা। উদ্দেশ্য ছিল বিবাদ মিটিয়ে ফেলা। কিন্তু সমাধানের বৈঠকই মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযোগ, বচসা চলার মধ্যেই আচমকা একরামুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কয়েকজন। ধারালো অস্ত্রের কোপে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
আহত হয়েছেন আরও ছয় জন। তাঁদের মধ্যে বাদশা শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, সালিশি সভা মানে বিচারের জায়গা, সেখানে যদি খুন হয়, তবে নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এই ঘটনাই কালিয়াচকের আতঙ্ককে আরও বাড়িয়েছে। কারণ এর ঠিক আগের দু’দিনেও রক্তাক্ত ইতিহাস লিখেছে এই এলাকা। সোমবার নিখোঁজ হওয়া তৃণমূল কর্মী ও কয়লা ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লা খানের দেহ মঙ্গলবার উদ্ধার হয়েছিল ইংরেজবাজারের একটি আমবাগান থেকে। মাথায় গুলি, শরীরে আঘাতের চিহ্ন—এ যেন পরিকল্পিত হত্যা। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জালালপুরে এক পাঁপড় বিক্রেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
টানা তিন দিনের মধ্যে তিনটি আলাদা খুনের ঘটনা—রাজনৈতিক থেকে ব্যক্তিগত, সব ধরনের রেষারেষিই যেন এক হয়ে ছিন্নভিন্ন করছে শান্ত কালিয়াচককে। আতঙ্কে রাত নামতেই দরজা বন্ধ করছেন স্থানীয়েরা। পুলিশের টহল বাড়ানো হলেও বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দুষ্কৃতীদের দাপট কবে থামবে?