আহত যাত্রী সুবীর বিশ্বাস বলেন, “বাস ঠিকঠাকই যাচ্ছিল। হঠাৎ জোরে ধাক্কা লাগে। ঝাঁকুনিতে সবাই ছিটকে পড়ি। কী ভাবে দুর্ঘটনা হল, কিছুই বুঝতে পারিনি।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার (Nadia) ধুবুলিয়া থানার বাহাদুরপুর। বুধবার বিকেলের ব্যস্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক মুহূর্তে পরিণত হল মৃত্যু ফাঁদে। মুখোমুখি সংঘর্ষে (Horrific accident) প্রাণ গেল এক শিশু-সহ তিন যাত্রীর, আহত অন্তত দশ জন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে দীর্ঘক্ষণ বিপর্যস্ত থাকে যান চলাচল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বহরমপুরমুখী একটি যাত্রিবাহী বাসকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় কৃষ্ণনগরমুখী আর এক যাত্রীবাস। প্রচণ্ড ধাক্কায় বহরমপুরগামী বাসের প্রায় সকল যাত্রীই আহত হন। অন্য বাসটি ছিটকে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে রাস্তার ধারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। পরে আহতদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও এক জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক যাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ধুবুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছরের ঝড়ু শেখ, সোনডাঙার ছয় বছরের শিশু রফিদ শেখ এবং ২৫ বছরের যুবতী রোজিনা খাতুন। তিন জনই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বহরমপুরগামী বেসরকারি বাসের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধার কাজে নামেন। পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
আহত যাত্রী সুবীর বিশ্বাস বলেন, “বাস ঠিকঠাকই যাচ্ছিল। হঠাৎ জোরে ধাক্কা লাগে। ঝাঁকুনিতে সবাই ছিটকে পড়ি। কী ভাবে দুর্ঘটনা হল, কিছুই বুঝতে পারিনি।”
দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছু ক্ষণ আটক থাকে জাতীয় সড়ক, সারি সারি বাস–লরির লাইন পড়ে যায়। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। স্থানীয়দের অভিযোগ, “পুলিশি নজরদারি কম থাকায় বারবার দুর্ঘটনা হচ্ছে জাতীয় সড়কে।”
অন্য দিকে, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।