তাঁর কটাক্ষ, “বাংলার মানুষ অতটা বোকা নন। উন্নয়নের পাঁচালি পড়ে ওদের দৃষ্টি আর ঘোরানো যাবে না।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। বীরভূমের রামপুরহাটের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ঘোষণা করেছেন, এ বার লক্ষ্য ২৫০ আসন। কিন্তু সেই দাবিকেই সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেললেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা নবগঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর কটাক্ষ, “বাংলার মানুষ অতটা বোকা নন। উন্নয়নের পাঁচালি পড়ে ওদের দৃষ্টি আর ঘোরানো যাবে না।”
হুমায়ুনের অভিযোগ, রাজ্যে ‘অগণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতি’ চালু রেখেছে তৃণমূল। তাঁর কথায়, “বড় বড় কথা বলে লাভ নেই। ২৫০ সিট? কোন অঙ্কে হিসেবটা হচ্ছে? ২০১১-তে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও ২৫০ হয়নি — কংগ্রেস পেল ৪২, তৃণমূল ১৮২। ২০১৬-তে একা লড়ে ২১১, ২০২১-এ ২১৫। আর এবার হঠাৎ ২৫০! বাকি দলগুলো কি ওয়াকওভার দেবে? না কি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারই খরিদ করা হবে?”
এদিনও উন্নয়ন নিয়ে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে। হুমায়ুন বলেন, “এ সব উন্নয়নের গল্প, মিথ্যা প্রচার—মার্চ অবধি চলুক। এপ্রিলেই মানুষ ভোটের বাক্সে জবাব দেবে।”
গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর ঘিরে দলের সঙ্গে সংঘাত প্রকাশ্যে আসে তাঁর। দূরত্ব ক্রমে বেড়ে যায়। ২০ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠনের ঘোষণা করেন হুমায়ুন। নতুন দল গড়েই একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল নেতৃত্বকে তোপ দেগেছেন তিনি।
আগামী ৩১ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ব্রিগেডে বড়সড় সভার কথা ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সোমবার ব্রিগেডে বিক্ষোভের মুখেও পড়েন তিনি। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে ফের ঘোষণা, “তৃণমূলকে উৎখাত করার লড়াই শুরু হয়েছে।” প্রথমে জানিয়েছিলেন, তাঁর দল ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। পরে জানান, “এখন ১৮২টি আসনে প্রার্থী তৈরি।”
ভোটের আগে সমীকরণ বদলাচ্ছে, প্রশ্ন একটাই, হুমায়ুনের এই চ্যালেঞ্জ আদৌ কি তৃণমূলের সমীকরণে ফাটল ধরাতে সক্ষম হবে?