মুর্শিদাবাদে মমতার সভায় আবারও দেখা মিলল সেই একাগ্র অনুগতের, যাঁর কাছে রাজনীতি নয়, দিদিই তাঁর ধর্ম, তাঁর নেশা, তাঁর পথচলা।

সোমনাথ বণিক।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা সোমনাথ বণিককে (Somnath Banik) চেনে না এমন তৃণমূল কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন। দলের কোনও পদ নেই, পরিচিতি নেই— কিন্তু দিদির প্রতি এক অদ্ভুত আবেগ তাঁকে করে তুলেছে তৃণমূলের সভা-সমাবেশের চেনা চরিত্র। গত ১৬ বছর ধরে ঘরছাড়া, সংসার-চাকরি পাশে রেখে শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee, ) ভাষণ শোনার নেশায় (Mamata devotee) এ প্রান্ত–ও প্রান্তে ছুটছেন তিনি।
বুধবার রাতেই ঠান্ডা হাওয়া উপেক্ষা করে বহরমপুর বাসস্ট্যান্ডের ধারে কোনওরকমে রাত কাটিয়েছেন সোমনাথ। বৃহস্পতিবার সকাল হতেই পৌঁছে গিয়েছেন বহরমপুর স্টেডিয়াম চত্বরে, দিদির বক্তব্য সামনের সারিতে বসে শোনার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি।
সোমনাথের কথায়, “১৯৯২ সাল থেকেই দিদির সঙ্গে আছি। যেখানে দিদির সভা, সেখানেই চলে যাই। খাওয়া ঘুম কিছুই দেখি না।”
কলকাতার একটি ছোট কোম্পানিতে মাল সরবরাহের কাজে যুক্ত তিনি। দিদির সভায় যেতে মাঝেমধ্যেই বিনা বেতনে ছুটি নিতে হয়। কিন্তু তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র আফশোস নেই, “নিজের টাকায় যাই। দিদির লড়াইয়ের দিন ১৯৯৩-এর ২১ জুলাইয়েও ওঁর সঙ্গে ছিলাম।”
দীর্ঘ পথ চলায় হারিয়েছেন বাবা-মাকে। তবু দিদির রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশে থাকার সময়ে কোনওদিন পিছপা হননি। তবে গত ১৬ বছর ধরে বাড়িতে যেতে পারেননি, কারণটি জানাতে চান না। শুধু বলেন, “দিদি আর অভিষেক ব্যানার্জি— এঁরা আমার প্রাণের মানুষ।”
২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর মাথায় যে আশীর্বাদের হাত রেখেছিলেন, সেই স্মৃতি আজও বুকভরা গর্বে বয়ে বেড়ান তিনি।
সোমনাথ জানান, “কালীপুজো, ভাইফোঁটা, রক্ষাবন্ধনের দিন দিদির বাড়িতে যাই। বহু বছর আগে দিদির সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এখন দিদি আমাকে চিনবেন কি না জানি না— কিন্তু আমার ভালবাসা কমে না।”
তাঁর ব্যাগ খুললেই বেরিয়ে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নানা সময়ে পাওয়া বা নিজে কেনা অসংখ্য ছবি। সব ছবি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই যে ক’টি পারেন সঙ্গে রাখেন। সভার মাঠে দাঁড়িয়ে মাঝেমধ্যেই ছবি তুলে ধরেন তিনি।
এদিন বহরমপুরের সভা শেষে সোমনাথের কণ্ঠে ফের আত্মবিশ্বাস, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের দল ২৫০–র বেশি আসনে জিতবে। দিদিই ফিরবেন।”
১৬ বছরের পথচলা, ঘরছাড়া জীবন, দিদির প্রতি অবিচল আস্থা— মুর্শিদাবাদে মমতার সভায় আবারও দেখা মিলল সেই একাগ্র অনুগতের, যাঁর কাছে রাজনীতি নয়, দিদিই তাঁর ধর্ম, তাঁর নেশা, তাঁর পথচলা।