এই নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক দোষারোপের লড়াই। তৃণমূল বলছে, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে এমন পদে ভুল ব্যক্তিদের বসাচ্ছে। আবার বিজেপির দাবি, তৃণমূলই প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের বসিয়েছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 October 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন হইচই ঝড়, ঠিক তখনই নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জে ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। জানা গিয়েছে, যাঁদের নাকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামই নেই, সেই পরিবারের সদস্যরাই এখন সামলাচ্ছেন ভোটার তালিকা সংশোধনের (Voter List) কাজ, অর্থাৎ বিএলওর (বুথ লেভেল অফিসার) দায়িত্ব!
ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের দুর্গাপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই গ্রামেরই দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলন রায় বর্তমানে ৭৫ নম্বর বুথের বিএলওর দায়িত্বে। অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যেরই নাম ছিল না।
এই নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক দোষারোপের লড়াই। তৃণমূল বলছে, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে এমন পদে ভুল ব্যক্তিদের বসাচ্ছে। আবার বিজেপির দাবি, তৃণমূলই প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের বসিয়েছে।
মিলন রায়ের কথায়, “আমি ১৫ বছর ধরে এই বুথের বিএলওর কাজ করছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমাদের পরিবারের নাম ছিল না, সেটা ঠিক। কিন্তু আমি যেহেতু দায়িত্ব পেয়েছি, তাই স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি। এমনকি নিজের পরিবারকেও ভোটার তালিকার ম্যাপিং থেকে বাদ রেখেছি।”
তবে তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতি তাঁর একার নয়। বলেন, “আমার মতো আরও অনেকে আছেন যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ছিল না, তবুও বিএলওর দায়িত্ব পালন করছেন।”
এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদন ঘোষ বলেন, “আমরা বিডিওকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম যাতে মিলন রায়কে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। কিন্তু বিডিও তাতে কোনও কর্ণপাত করেননি।” তাঁর দাবি, “মিলন রায় বিজেপি-ঘনিষ্ঠ।”
অন্যদিকে, বিজেপির রানাঘাট দক্ষিণ জেলার সম্পাদক অমিত প্রামাণিক বলেন, “মিলন রায় আসলে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। নইলে পঞ্চায়েত প্রধান সরানোর দাবি জানিয়েও বিডিও তাঁকে সরাতে পারছেন না!” তাঁর মতে, ব্লকের সমস্ত সেইসব কর্মীদের, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, অবিলম্বে বিএলওর পদ থেকে সরানো উচিত, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “যাঁরা ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে ছিলেন না, তাঁদের দিয়ে এই কাজ করানো মানে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় উঠে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা করতে হলে যাঁদের নাম ছিল তাঁরাই এই কাজ করুন।”
বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণগঞ্জের প্রশাসনিক মহলেও। যদিও এ বিষয়ে কৃষ্ণগঞ্জের বিডিওর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, তিনি বর্তমানে ব্লকের বাইরে রয়েছেন।