হাসপাতালের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “এই উদ্যোগ শুধু মেডিকেল কলেজেই নয়, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজেও বসছে লাইন্যাক মেশিন। পাশাপাশি পিজি ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে তৈরি হচ্ছে নতুন ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন রূপে সাজছে শহরের প্রাচীনতম ও অন্যতম ব্যস্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান—কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Calcutta Medical College)। আধুনিক চিকিৎসার মান আরও উন্নত করতে প্রায় ৪০ কোটিরও বেশি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হচ্ছে এখানে (New journey with modern equipment worth 40 crores)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসছে একাধিক নতুন হাইটেক মেশিন—আধুনিক সিটি স্ক্যান ইউনিট (Hi-tech CT scan), ক্যান্সার চিকিৎসার অপরিহার্য লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (লাইন্যাক, LINAC machine) এবং হাড়ের ঘনত্ব মাপার আধুনিক বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) মেশিন।
এই বিপুল প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশন। সূত্রের খবর, সিটি স্ক্যান ও লাইন্যাকের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে, বিএমডি মেশিনের টেন্ডার ইতিমধ্যেই শেষ।
নতুন সিটি স্ক্যান মেশিনটি বসবে সুপার অফিসের কাছেই নবনির্মিত সাততলা ভবনের একতলায়। অন্যদিকে, নতুন লাইন্যাক মেশিনটি স্থাপন করা হবে ক্যান্সার হাসপাতালের বিশেষ বাঙ্কারে।
হাসপাতালের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “এই উদ্যোগ শুধু মেডিকেল কলেজেই নয়, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজেও বসছে লাইন্যাক মেশিন। পাশাপাশি পিজি ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে তৈরি হচ্ছে নতুন ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র।”
বিএমডি মেশিনটি বসানো হবে মেডিকেলের সুপার স্পেশালিটি ভবনে (এসএসবি)। বর্তমানে পিজি হাসপাতালেই এই যন্ত্র রয়েছে, এবার সেই সুবিধা মিলবে মেডিকেল কলেজেও।
নতুন যন্ত্রপাতির আর্থিক মূল্যও চোখ কপালে তোলার মতো। লাইন্যাক মেশিনের দাম প্রায় ৩০ কোটি টাকা, সিটি স্ক্যানের দাম ৭ কোটি টাকা, আর বিএমডি মেশিনের খরচ প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।
তাছাড়াও হাসপাতাল কিনছে সার্জারির জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম—থোরাকোস্কোপ, এন্ডোস্কোপ, ওটি লাইট ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার খরচ করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনাল বিশ্বাস বলেন, “আমরা আশাবাদী, টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে। নতুন যন্ত্রগুলি বসলে রোগীসেবা আরও উন্নত হবে। সরকারি উদ্যোগে এই আধুনিকীকরণ সত্যিই এক বড় পদক্ষেপ।”