অভিষেক সতর্ক করে বলেন, “এসআইআরে নাম না থাকা মানেই CAA-র মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত হবে—বিজেপির প্রচার। কিন্তু আসামের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, যাঁরা নাম লিখেছে, তাঁদের নাগরিকত্ব গিয়েছে। তাই কানে না শুনে চোখে দেখুন, এরাজ্যেও একই চক্রান্ত হচ্ছে।”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর এবং সিএএ-র নাম করে কেন্দ্র এবং কমিশন যা করছে তাতে বিজেপির ঘরেই বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ গেলে দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ফের দিয়ে অভিষেক বলেন, "রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যাঁরা দেশে জন্মায়নি তাঁরা ভোটাধিকারের সুযোগ পাবে না অর্থাৎ যাঁরা ওপার বাংলায় জন্মগ্রহণের পর এপারে এসেছেন তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে বিজেপির ঘরেই বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে। যে কারণে বিজেপির মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাই তো প্রশ্ন তুলছে, শান্তনু ঠাকুর-সুব্রত ঠাকুরকে কনভিন্স করতে পারছে না, ওরা সাধারণ মানুষকে কি করে সন্তুষ্ট করবে?”
অভিষেক এও বলেন, "এদের ফাঁদে কেউ পা দেবেন না, যদি কেউ এদের সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করেন, তাহলে আপনাদের অবস্থা আসামের ১২ লক্ষ হিন্দু মানুষের মতো হবে। সবাইকে ডিটেশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে ফেলবে।"
আগামীকাল থেকেই কমিশনের নিযুক্ত বুথ লেবেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি যাবেন। তবে সেই শুরুর আগে অভিষেক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সোনালি খাতুনের ঘটনা উদাহরণ হিসেবে টানেন, “বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে ওপার বাংলায় পাঠানো হয়েছিল। অথচ তার বাবা-মায়ের নাম আছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। আদালতের নির্দেশের পরও ফেরানোর কাজ হয়নি। আতঙ্কে ইতিমধ্যেই বাংলায় ছয়জন মারা গেছেন।”
অভিষেক সতর্ক করে বলেন, “এসআইআরে নাম না থাকা মানেই CAA-র মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত হবে—বিজেপির প্রচার। কিন্তু আসামের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, যাঁরা নাম লিখেছে, তাঁদের নাগরিকত্ব গিয়েছে। তাই কানে না শুনে চোখে দেখুন, এরাজ্যেও একই চক্রান্ত হচ্ছে।”
এদিন বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়েও অভিষেক আশ্বাস দিয়েছেন, “যদি কোথাও কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হয়, তারা কমিশন ও জেলা প্রশাসনকে জানাতে পারবেন। বিজেপি যতই ষড়যন্ত্র বা ভীতি তৈরির চেষ্টা করুক, তৃণমূল থাকতে বাংলার একজনও যোগ্য ভোটারকে তারা তাড়াতে পারবে না।”
এইদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভন-বৈশাখীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক জানান, তাঁরা তৃণমূলে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
এসআইআরের নামে চক্রান্তের বিরুদ্ধে আগামিকাল কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। দূরের জেলা থেকে লোকজনকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া থেকে মানুষ আসবেন, সঙ্গে থাকবে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড।