সরকারি হোক কিংবা বেসরকারি, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর দেহ আটকে রাখার অভিযোগ হামেশাই ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর এবং চিকিৎসক নিগ্রহের মতো ঘটনাও হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 September 2025 00:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া টাকার জন্য মৃত রোগীর (Dead Body) দেহ আর আটকে রাখা যাবে না। কোনও রোগী মারা গেলে, তার চিকিৎসাজনিত খরচের কোনও বকেয়া থাকলেও, দেহ আটকে রাখা যাবে না। সর্বাধিক পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দেহ পরিজনের হাতে দিয়ে দিতে হবে। এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন (Health Commission) বা ক্লিনিক্যাল এস্ট্যাবলিসমেন্ট বোর্ড।
সরকারি হোক কিংবা বেসরকারি, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর দেহ আটকে রাখার অভিযোগ হামেশাই ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর এবং চিকিৎসক নিগ্রহের মতো ঘটনাও হয়েছে। তবে সেইভাবে কোনও বদল আসেনি। সম্প্রতি একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর দেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। রোগীমৃত্যুর ১৫ ঘণ্টা পর দেহ ছেড়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপরই নড়েচড়ে বসে কমিশন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই দেহ ছাড়ার বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করল তারা।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, হাসপাতালে কোনও রোগীর মৃত্যুর পর পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দেহ ছাড়তে হবে। নিয়ম না মানলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে। আর যদি নির্দিষ্ট কোনও কারণে দেহ ছাড়তে দেরি হয় তবে তা রোগীর পরিবারকে জানাতে হবে। কোনও ভাবেই যাতে মৃত রোগীর শরীরে পচন না ধরে সেই দিকও খেয়াল রাখবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই।
একবালপুরের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। মৃতের পরিবার জানিয়েছিল, রোগীর স্বাস্থ্যবিমা ছিল। ফলে চিকিৎসা সংক্রান্ত বাকি টাকা জমা দেওয়া না পর্যন্ত দেহ ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানায় তাঁরা। এরপর বলা হয়, যে বিভাগে এই সংক্রান্ত কাজ করে তা পরের দিন সকাল ৮টায় খুলবে। তাই ততক্ষণ আর দেহ পায়নি পরিবার।
সমস্যা এখানে শেষ হয়নি। পরের দিন নির্ধারিত সময়ও দেহ দেওয়া হয়নি। বিল সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখানো হয় বলে দাবি। শেষ পর্যন্ত দুপুর ৩টের পর দেহ ছাড়া হয়।