এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) পুলিশ কর্তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আজকের রাতই হোক সেই রাত। যে রাতের পর বাংলায় যেন কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, বেআইনি নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি। অর্থাৎ ভোটের আগে বেআইনি মদ, বোমা, অস্ত্র, হাতিয়ার যা বাজেয়াপ্ত করতে হবে তা আজ রাতের মধ্যেই। কালকের জন্য যেন কিছু ফেলে রাখা না হয়।

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সোমবার বৈঠক করেন জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে।
শেষ আপডেট: 9 March 2026 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) আগে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সোমবার বৈঠক করেন জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে। সেই বৈঠকে যে কিছু বকুনি ঝকুনি হবে তার দেওয়াল লিখন আগে থেকেই স্পষ্টই ছিল। শুধু জানা ছিল না, কমিশন এবার কতটা কড়া হবে, আর বকুনির ভাষা, শব্দবন্ধই বা কী হবে। সোমবার বিকেলের মধ্যে তা অনেকটাই বোঝা গেল। জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) পুলিশ কর্তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আজকের রাতই হোক সেই রাত। যে রাতের পর বাংলায় যেন কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, বেআইনি নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি। অর্থাৎ ভোটের আগে বেআইনি মদ, বোমা, অস্ত্র, হাতিয়ার যা বাজেয়াপ্ত করতে হবে তা আজ রাতের মধ্যেই। কালকের জন্য যেন কিছু ফেলে রাখা না হয়।
ভোটের আগে বেআইনি অস্ত্র, বোমা বাজেয়াপ্ত করতে প্রতিবারই স্পেশাল ড্রাইভ চলে। তা কতটা সত্যি সত্যি কতটা লোক দেখানো তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তর্ক আছে। বিরোধীরা প্রশ্ন করে, সত্যিই যদি বাজেয়াপ্ত হয় তাহলে ভোটের দিন বিক্ষিপ্ত ভাবে এদিন বোমা বন্দুক আসে কোথা থেকে!
কিন্তু এবার কমিশনের মেজাজ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে বেশ কড়া। জানা গিয়েছে, বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর টিম ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ বার কোনও খেলা হবে না। ভোট কেমন করে করাতে হয় তাঁরা দেখিয়ে দেবেন। অর্থাৎ শঠে শাঠ্যংয়ের একটি ইঙ্গিত বা আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে গর্জন ও বর্ষণের মিল থাকবে নাকি থাকবে না তা মিলিয়ে দেখা বাকি।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন করে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলায় অশান্তি হয়েছে কেন? আর কোনও রাজ্যে তো হয়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি এদিন বৈঠকে এসে স্পষ্ট অভিযোগ করে গেছে, প্রাক ভোট ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে। এরকম হবে কেন? ভোটে যেন কোনও হিংসা না হয়। কোথাও হিংসা হলে সেখানকার অফিসার দায়ী থাকবেন, এই বলে রাখলাম। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।
এদিনের বৈঠকে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়ে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল। পশ্চিমবঙ্গে নার্কোটিক আইনের (Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 (PITNDPS) প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিনীত গোয়েল সম্ভবত বলার চেষ্টা করেন যে, এই আইনে কাউকে আটক করতে হলে একটি অ্যাডভাইজারি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। তবে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গেলে কমিশন কিছুটা বিরক্ত হয়।