Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেই

বাংলায় এক বা দু’দফায় ভোট চাইল বিজেপি, জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আরও ১৭ দফা দাবি ঠিক কী কী

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে রাজ্য বিজেপি-র সহ সভাপতি তাপস রায় (Tapas Roy) এবং শিশির বাজোরিয়া সোমবার পষ্টাপষ্টিই দাবি জানালেন, ‘খুব কম সময়ের ব্যবধানে এক বা দুটি দফায় ভোট করানো হোক বাংলায়’ (West Bengal Election 2026)। এ ছাড়া আরও ১৭ দফা দাবি এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পেশ করেছেন তাঁরা।

বাংলায় এক বা দু’দফায় ভোট চাইল বিজেপি, জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আরও ১৭ দফা দাবি ঠিক কী কী

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 9 March 2026 16:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা বাংলার রাজনীতিতে এই ধারনাই তৈরি হয়ে গেছিল যে ভোটে স্বচ্ছতা আনতে হলে দফা বাড়াতে হবে। যত দফা ভোট হবে, তত স্বচ্ছ হতে পারে ভোট। সেই সূত্র যে ভ্রান্ত ছিল সে ব্যাপারে অমিত শাহ-শুভেন্দু অধিকারীদের আর বিভ্রান্তি নেই। বরং তাঁরা মনে করছেন, এসআইআরের পর তা আর জরুরিও নয়। তাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে রাজ্য বিজেপি-র সহ সভাপতি তাপস রায় (Tapas Roy) এবং শিশির বাজোরিয়া সোমবার পষ্টাপষ্টিই দাবি জানালেন, ‘খুব কম সময়ের ব্যবধানে এক বা দুটি দফায় ভোট করানো হোক বাংলায়’ (West Bengal Election 2026)। এ ছাড়া আরও ১৭ দফা দাবি এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পেশ করেছেন তাঁরা।

এখন কৌতূহলের বিষয় হল, সেই ১৭ দফা দাবি ঠিক ঠিক কী কী?

সেই উত্তর সন্ধানের আগে জেনে নেওয়া দরকার এই দাবিপত্রের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে আর কী কী বলেছেন, তাপস রায়-শিশির বাজোরিয়ারা। দীর্ঘ দিন কংগ্রেসি ঘরানার রাজনীতিতে ছিলেন তাপসবাবু। বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর উত্থান। সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে তাপস রায় পরিষ্কার করে বলেছেন, বাংলায় ‘ডেমেক্র্যাসি রেস্টোর’ করে ভোট করাতে হবে। সমাজবিরোধী, তোলাবাজ, দুষ্কতী, গুণ্ডা এবং সরকারের দলদাস পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের শায়েস্তা না করলে ভোট অবাধ ও স্বচ্ছ হবে না। প্রতি পদে পদে ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করবে। কীভাবে তা কমিশন করবে সেটা ভেবে দেখুক।

জ্ঞানেশ কুমার তথা কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে বিজেপির বাকি দাবিগুলি হল—

২। বিজেপির দাবি, গত তিনটি নির্বাচন, তথা ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে যেসব আধিকারিককে নির্বাচন কমিশন বদলি করেছিল, তাঁদের এবারও ভোটের কাজে রাখা যাবে না। তাঁদের ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে হবে।

৩। যেসব বুথে গত তিন নির্বাচনে হিংসা হয়েছে বা যেখানে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, সেগুলিকে ‘সংবেদনশীল বুথ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।

৪। কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) আগেভাগে মোতায়েন করে তাদের স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তারা স্থানীয় পুলিশের উপর নির্ভরশীল থাকলে সেই বাহিনী থাকাও যা না থাকাও তাই।

৫। আধা সামরিক বাহিনী যেন স্থানীয় কারও আতিথেয়তা বা উপঢৌকন গ্রহণ না করে। এ ব্যাপারে তাদের নোডাল অফিসারকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে রাখতে হবে। নইলে অতীতেও দেখা গেছে, শাসক দলের লোকেরা এদের অনেককে খাইয়ে দাইয়ে বশ করে ফেলার চেষ্টা করে।

৬। সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের অনেক আগে থেকেই নিয়োগ করতে হবে, যাতে তারা এলাকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।

৭। লোকাল পুলিশের উপর বিন্দুমাত্র ভরসা না করে অবজারভারদের দিয়ে এলাকা চিহ্নিত করে সিএপিএফ দিয়ে রুট মার্চ ও এরিয়া ডোমিনেশন করাতে হবে। যাতে মানুষের আস্থা তৈরি হয়।

৮। বড় বহুতল আবাসনগুলির ভিতরেই বাধ্যতামূলকভাবে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

৯। কমিশনকে এদিন বিজেপি জানিয়েছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’-কে নিষিদ্ধ করে ভোটের সময়ে তাদের সব অফিস সিল করে দিতে হবে। শাসক দলের নেত্রীর ধর্নাস্থল যাঁরা দেখভাল করে আগলে রাখছে, যাঁদের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে, তাঁরাই ভোটের প্রক্রিয়ায় মিশে থাকলে আর বাকি কী রইল।

ভোটের দিন সংক্রান্ত দাবি

১০। ভোটারদের জন্য দুই ধাপের পরিচয় যাচাই করতে হবে—প্রথমে বুথে ঢোকার আগে সিএপিএফ-কে দিয়ে এবং পরে বুথের ভিতরে পোলিং অফিসারের মাধ্যমে।

১১। রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের বুথের ভিতরে নয়, বাইরে বসাতে হবে। নইলে ভোটারকে প্রভাবিত করা বা ছাপ্পার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

১২। প্রতিটি বুথে শুধুমাত্র আধা সামরিক বাহিনী রাখতে হবে। লাইন ম্যানেজ করার জন্যও রাজ্য পুলিশ বা ভলান্টিয়ার রাখা যাবে না।

১৩। পোলিং অফিসারদের মধ্যে ৫০ শতাংশ রাজ্য এবং ৫০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী রাখা হোক।

১৪। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষককে পোলিং অফিসার হিসেবে রাখা যাবে না।

প্রযুক্তি ও নজরদারি

১৫। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবক্যাম বসাতে হবে। এবং সব প্রার্থী ও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

১৬। কোনও বুথে ওয়েবক্যাম বিকল হলে সঙ্গে সঙ্গে ভোট বন্ধ করে দিতে হবে এবং সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করাতে হবে।

ভোট গণনা সংক্রান্ত দাবি

১৭। ভোট গণনা শুধু জেলা বা মহকুমা শহরে করতে হবে এবং সেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

১৮। গণনার সময়ও সিএপিএফ-এর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাজ্য পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবকদের কোনও ভূমিকা না থাকে।


```