এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা প্রায় প্রবাদের মতো করে ফেলেছেন। বিজেপির উদ্দেশে গত ১০-১৫ বছরে তিনি বহুবার বলেছেন, ‘আমাকে ধমকালে আমি চমকাই, আমাকে চমকালে আমি গর্জাই, আমাকে গর্জালে আমি বর্ষাই...’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 12 March 2026 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) আগে গত রবিবার কলকাতায় আসে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চ। তার পর সোম ও মঙ্গলবার প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শেষে সাংবাদিক বৈঠকে প্রায় সমস্ত প্রশ্নের উত্তরেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) বলেন, বাংলায় ভোটে কোনও অফিসার কোনও পুলিশ কর্মী অনিয়ম করলে ‘শক্ত সে শক্ত কারওয়াই’ হবে। অর্থাৎ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেই অফিসার বা পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে।
কাট টু বৃহস্পতিবারের নবান্ন। এদিন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে সব জেলার জেলা শাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সোজাসাপ্টা বলেন, ছাড়ুন তো মশাই শক্ত! কেউ ভয় পাবেন না।
এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা প্রায় প্রবাদের মতো করে ফেলেছেন। বিজেপির উদ্দেশে গত ১০-১৫ বছরে তিনি বহুবার বলেছেন, ‘আমাকে ধমকালে আমি চমকাই, আমাকে চমকালে আমি গর্জাই, আমাকে গর্জালে আমি বর্ষাই...’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাবরের রাজনীতিই ডাকাবুকো। সাহস করে এগিয়ে যাওয়া। শুধু মনমোহন জমানায় একবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ধমক খেয়ে একবার কেঁদে ফেলেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছিল। বৈঠকেই মমতা নাকি বলেছিলেন, আমার বাবাও কখনও এভাবে আমাকে বকেননি।
সে যাক। সূত্রের দাবি, এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলাদের উদ্দেশে বলেন,“ভয় পাবেন না আপনারা আপনাদের কাজ করে যান। আমি জানি, আপনাদের সঙ্গে মিটিংয়ে কন্টিনিউয়াস ভয় দেখিয়েছে। ভোট আসছে, এসব ওরা বেশি করে করবে। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। কেউ কিছু করতে পারবে না”।
বস্তুত এবার ভোটের অনেক আগে থেকেই এই ভয় আর বরাভয়ের রৌদ্রছায়া চলছে। সেই এসআইআর পর্ব থেকে শুরু। কমিশন যখন অনিয়মের জন্য বিএলও-দের সতর্ক করেছিল, তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বরাভয় দিয়েছিলেন। এবার আমলাদের দিলেন।
আবার কমিশনের ব্যাপারটা উল্টো। তাঁদের কাছে অভিযোগ হল, “বাংলায় এক শ্রেণির আমলা, পুলিশ এমনই দলদাসে পরিণত হয়েছে যে তাঁরা বেপরোয়া হয়ে গেছেন। এই কারণেই কমিশনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও এক শ্রেণির বিএলও অনিয়ম করেছেন। কিছু আমলা শুনেও সব শুনছেন না। কিছু পুলিশ সুপার এখনও তৃণমূলের জেলা সভাপতির মতো কাজ করছেন.. ইত্যাদি ইত্যাদি”।
প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের আগে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্ঞানেশ কুমার। বিজেপির তাপস রায় থেকে সিপিএমের মহম্মদ সেলিম—সকলেই জ্ঞানেশ কুমারকে বলেন, বাংলায় ভোটে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে রাখা হয়, কা কমিশনকেই কাটাতে হবে। মানুষকে বরাভয় দিতে হবে। ভোট যে স্বচ্ছ ও অবাধ হবে সে ব্যাপারে আস্থা অর্জন করতে হবে।
সেই পরিস্থিতিতেই সম্ভবত জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সাংবাদিক বৈঠকে বার বার বলেছেন, ‘শক্ত সে শক্ত কারওয়াই’। অর্থাৎ বরাভয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বরাভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেন। বাকিটা সময় বলবে।