কালীঘাটে এখন শেষ মুহূর্তের রান্নাবান্না চলছে। যতদূর জানা যাচ্ছে, রবিবারের মধ্যেই তা শেষ করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তার পর সোমবার নাগাদ নির্বাচন কমিশন ভোটের (West Bengal Election Dates) চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করলে ফ্রিজ থেকে বের করে গরম গরম পরিবেশন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোট ঘোষণার পরদিনই দলের প্রার্থী (TMC Candidates list) ঘোষণা করেন মমতা।

শেষ আপডেট: 12 March 2026 20:03
কালীঘাটে এখন শেষ মুহূর্তের রান্নাবান্না চলছে। যতদূর জানা যাচ্ছে, রবিবারের মধ্যেই তা শেষ করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তার পর সোমবার নাগাদ নির্বাচন কমিশন ভোটের (West Bengal Election Dates) চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করলে ফ্রিজ থেকে বের করে গরম গরম পরিবেশন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোট ঘোষণার পরদিনই দলের প্রার্থী (TMC Candidates list) ঘোষণা করেন মমতা।
সেদিন তাঁর পাশে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। অবশ্য এবার হেঁসেলের আশপাশেও ঘেঁষতে পারেননি তৃণমূলের বক্সীদা। রান্নাবান্নার জন্য কী বাজার হয়েছে, কী ধরনের মেনু এর কোনওকিছুই সম্ভবত তিনি জানেন না। কালীঘাটের খুব কাছের একজন জানিয়েছেন, দূর থেকে কেবল ১৭ জন প্রার্থীর একটা ফর্দ পাঠিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি। ব্যস ওইটুকুই।
যেহেতু এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মধ্যেরই দুই রাঁধুনি, এবং তৃতীয় জন পেশাদার প্রতীক জৈন, তাই এবার তালিকা নিয়ে এখনও কিছুই বিশেষ কিছু আসেনি। শুধু আগে থেকে কিছু লোককে ফোন করে তাঁদের সম্ভাব্য আসন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যেমন, বালিগঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। আবার শুভাশিস চক্রবর্তীকে বলেই দেওয়া হয়েছে সোনারপুর দক্ষিণে যেতে। কিন্তু বাকি বেশিরভাগ ‘সিটিং এমএলএ-ই’ অনিশ্চয়তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যেমন সোহম চক্রবর্তী জানেন যে তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডিপুরে আর প্রার্থী করবে না দল, কিন্তু পরিবর্তে কোথায় পাঠাবে—তিনি হয়তো জানেন না।
আর নতুন যাঁরা এবার টিকিট পেতে পারেন বলে আশা করছেন, তাঁদের কাছে তো কোনও ক্লু-ই নেই বলে খবর। যেমন রাজ্যসভার মনোনয়ন না পেলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিধানসভায় টিকিট পাবেন। কিন্তু সম্ভবত ঋতব্রতও জানেন না তাঁর কপালে কোন আসন ঝুলছে? কিংবা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে এসে গত চার বছর ধরে তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্ত’ চলছে। এবার টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা আঠারো আনা। কিন্তু রাজীবও আন্দাজ করতে পারছেন না, কোন আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হবে।
তবে একটা বিষয়ে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট সম্মত হয়েছে। তা হল পরিবার পিছু এক জনকেই টিকিট দেওয়া হবে। বাবার সঙ্গে মেয়ে, বা মায়ের সঙ্গে ছেলে কিংবা মায়ের সঙ্গে মেয়ে—টিকিট পাবেন না। ব্যতিক্রম শুধু দাস পরিবার।
কোন সেই দাস পরিবার তা বলার আগে জেনে যেওয়া যেতে পারে, কেন পরিবারের প্রসঙ্গটি উঠছে। কারণ, ভোটের বাজারে তুমুল আলোচনা যে মেয়র ফিরহাদ হাকিম তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে প্রার্থী করতে আগ্রহী। একইভাবে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় ও বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের ছেলেকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সেই সঙ্গে পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ঘোষকে নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
তবে জানা যাচ্ছে, কম্বো অফারে কোনও বিশ্বাস নেই কালীঘাটের। সম্ভবত দ্বিতীয় প্রজন্মের কাউকেই টিকিট দেওয়া হবে না। এবং দেওয়া হলে তাঁর বাবা বা মা টিকিট পাবেন না। এই ব্যাপারটা শুধু ঘটতে পারে কলকাতার মানিকতলা আসনে। সেখানে সুপ্তি পাণ্ডের পরিবর্তে এবার শ্রেয়া পাণ্ডের কপালে অবশেষে শিঁকে ছিড়তে পারে।
এখন দাস বংশের প্রসঙ্গে আসা যাক। এই ‘দাস’ হলেন বর্তমানে মহেশতলার বিধায়ক দুলালচন্দ্র দাস। তাঁর মেয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় এখন বেহালা পূর্বের বিধায়ক। রত্নাকে শেষমেশ হয়তো বেহালা পূর্বেই প্রার্থী করা হবে। আর দুলাল দাসকে প্রার্থী না করে মহেশতলায় প্রার্থী করা হবে তাঁর ছেলে শুভাশিস দাসকে। ডেকে অভিষেক সে কথা জানিয়েও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আরও খবর খুব শিগগির প্রকাশিত হবে দ্য ওয়ালে। ভোটের সব খবর এখন এখানেই।