আদালত এও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্পূর্ণ দায় উদ্যোক্তাদের উপর থাকবে। যানজট এড়াতে নজর রাখবে পুলিশ।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire) ঘটনাস্থলে যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঠিক সেই আবহেই বুধবার বিকেল থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১০০ মিটার এলাকায় ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করে পুলিশ। তবে প্রশাসনের এই কড়াকড়ির মধ্যেও রুটে সামান্য বদল এনে শুভেন্দুকে মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ওঠে মামলাটি। শুনানি শেষে আদালত জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে। শীতলা মন্দির থেকে বাঁদিকে ঘুরে ইএম বাইপাস ধরে ব্রিজের নীচ দিয়ে নরেন্দ্রপুর থানার দিকে মিছিল যাবে। সর্বোচ্চ ২০০০ জন অংশ নিতে পারবেন। কোনও উস্কানিমূলক বা প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
আদালত এও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্পূর্ণ দায় উদ্যোক্তাদের উপর থাকবে। যানজট এড়াতে নজর রাখবে পুলিশ। পাশাপাশি ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল থানায় গিয়ে ডেপুটেশনও দিতে পারবেন।
শুনানিতে সরকারি পক্ষ থেকে মিছিলের বিরোধিতা করা হয়। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের কাছেই একটি হাসপাতাল রয়েছে। বড় জমায়েতে ভিড় বাড়লে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। যদিও শুভেন্দুর আইনজীবী আদালতে জানান, শীতলা মন্দির থেকে বাঁদিক ধরে ইএম বাইপাস দিয়েই মিছিল হবে। এতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বা যানজটের আশঙ্কা নেই। প্রয়োজনে রুট আরও ছোট করতেও তাঁরা রাজি। সেই যুক্তি বিবেচনা করেই রুট বদলে মিছিলের অনুমতি দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত ও উদ্ধারকাজে বিঘ্ন এড়াতে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বারুইপুর মহকুমা প্রশাসনের তরফে নাজিরাবাদ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বুধবার বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, “১৬৩ ধারা জারির আড়ালে আসলে বিজেপিকে আটকাতে চাইছে প্রশাসন। আমাদের ভয় পাচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে— সেই আশঙ্কাতেই তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।”