বিষ নেই। তবে দুরন্ত গতি আর স্বভাবে আক্রমণাত্মক। ইদানিং সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় গেছোবোড়ার উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়েছে। একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।

শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:36
জলে কুমির-ডাঙায় বাঘই শুধু নয়, সুন্দরবনের মানুষের আতঙ্ক যাপনের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নানান বিষধর সাপ। এবার বিপদটা আরও বাড়ল। কারণ সেই তালিকায় জুড়ল নির্বিষ গেছো বোড়াও। যার আতঙ্কে ঘুম উবে গিয়েছে মৎস্যজীবীদের।
বিষ নেই। তবে দুরন্ত গতি আর স্বভাবে আক্রমণাত্মক। ইদানিং সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় গেছোবোড়ার উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়েছে। একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। এককথায় বাঘ ও কুমিরের পর সুন্দরবনে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে এই গেছোবোড়া। এখনও গোছো বোড়ার আক্রমণে গুরুতর জখম এক মৎস্যজীবী ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জল-জঙ্গলের সুন্দরবনে বরাবরই ভয় ধরায় কালাচ, কেউটে এবং শঙ্খচূড়। বিষধর সাপের এই তিনটি প্রজাতি ব্যাপকভাবে দেখা যায় সুন্দরবন এলাকায়। বিভিন্ন প্রজাতির বিষহীন সাপও ঘুরে বেড়ায় যত্রতত্র। এবার সেই সমস্ত বিষহীন সাপেদের মধ্যে ‘গেছো বোড়া’ আতঙ্ক ছড়াল সুন্দরবনে। মৎস্য়জীবীদের অনেকেই এই সাপের কামড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই সাপ কামড় দিলে মানুষ মারা যায় এমন ভুলবার্তাও পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে আতঙ্ক তীব্র হচ্ছে।
প্রত্যন্ত সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের কাঁটামারি গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা মৎস্যজীবী বিশু সরদার। গত সোমবার দুই সঙ্গী গণেশ নস্কর ও বাসু ঢালিকে নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া ধরতে বেরিয়েছিলেন। বনদফতর থেকে বৈধ অনুমতিও নিয়েছিলেন। হলদিবাড়ি এলাকার নদী খাঁড়িতে বৃহস্পতিবার কাঁকড়া ধরছিলেন তিনি। সেই সময় গাছে ঝুলতে থাকা একটি গেছোবোড়া সাপ বিশুর বাঁ চোখে ছোবল দেয়। তীব্র যন্ত্রণা হতে থাকে তাঁর। জঙ্গলের গভীরে কী করবেন ভেবে উঠতে পারছিলেন না। তাঁর সঙ্গীরাই ঘটনার কথা বন দফতরকে জানায়। বনদফতরের লোকজন ওই মৎস্যজীবিকে উদ্ধার করে জামতলা হাসপাতালে পাঠায়। রাতে ওই মৎস্যজীবীকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন ওই মৎস্যজীবী।
অক্টোবর মাসে গেছো বোড়ার ছোবলে অসুস্থ হয়েছিলেন সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের লাহিড়িপুরের প্রভাস মণ্ডল ও কুলতলি চুপড়িঝাড়ার ভুবনখালির বাসিন্দা সঞ্জিত হালদার। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন তাঁরা।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, "গেছো বোড়া সাধারণত একটি বিষহীন সাপ। সবুজ রঙের। গাছের উপর এরা বসবাস করে। একে 'পিট ভাইপার' বা সবুজ বোড়াও বলা হয়। এই সাপ শিকারকে ধরে রাখে এবং কামড়ানোর পরে শিকারকে ছেড়ে দেয় না। বরং ধরে রাখে যতক্ষণ না সেটি মারা যায়।" তিনি জানান, সাধারণ এই সমস্ত সাপ সুন্দরবন এবং সংলগ্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। এই সাপের ফণা নেই। আড়াই তিন ফুট লম্বা আকৃতির এবং লিকলিকে হয়। এবং এটি খুব চঞ্চল প্রকৃতির। ফলে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। তবে এই সাপ ছোবল দিলেও বিষহীন ভেবে বসে না থেকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।