পশ্চিমবঙ্গে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর রাজ্যের শিশুদের কল্যাণে নানা প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। তার মধ্যে আছে শিশু ও মায়েদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ইউনিসেফের ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিন্থিয়া ম্যাকক্যাফরে।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 22:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর রাজ্যের শিশুদের কল্যাণে নানা প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। তার মধ্যে আছে শিশু ও মায়েদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
এই সব কাজেই দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থা রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে। বিক্ষিপ্তভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে বিভিন্ন শিল্প-বাণিজ্য সংস্থাও।

এক বৈঠকে প্রথমবারের মতো সিদ্ধান্ত হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কর্পোরেট সংস্থা এবং ইউনিসেফ শিশুদের উন্নয়নের জন্য এবং তাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এমন বিষয়গুলোর সমাধানের লক্ষ্যে এক সঙ্গে কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বুধবার রাতে কলকাতায় একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউনিসেফ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আধিকারিকদের পাশাপাশি বণিক সভা অ্যাসোচেম, বিসিসিআই, ভারত চেম্বার অফ কমার্স, ফিকি, এমসিসিআই এবং শিল্প মহলের শীর্ষ সংস্থা সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার নেতৃত্ব স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা জাতিসংঘের শিশু সংস্থার অভিজ্ঞতা, কর্পোরেট সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR)-র অর্থ এবং রাজ্য সরকারের সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহার শিশুদের ভবিষ্যৎ ও পরিবেশ সুরক্ষিত করতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাজ্য সরকার একটি সিএসআর কাউন্সিল (CSR Council) গঠন করেছে এবং একটি ' সিএসআর পোর্টাল' চালু করেছে, যার মাধ্যমে কর্পোরেট সংস্থাগুলি রাজ্যব্যাপী সরকারের চিহ্নিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তাদের সামাজিক কল্যাণ খাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে।

মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ ও শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের মন্ত্রী ডঃ শশী পাঁজা শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রতিনিধিদের বলেন, 'শিশুদের চাহিদাভিত্তিক প্রকল্পের একটি পোর্টফোলিও সিএসআর পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। যেখানে কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাদের সিএসআর খাতে বরাদ্দ অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে। মন্ত্রীর কথায় এটি সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সামাজিক কল্যাণ তহবিলকে মিলিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, কর্পোরেট সংস্থাগুলি সবসময় নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধানের সন্ধান করে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে। ফলে, এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ শিশু সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগে শিশুদের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে যা শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগগলিকে উপযুক্ত প্রকল্প বেছে নিতে সহায়তা করবে।
যেমন শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, কিশোর ও যুব উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ব্যবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রান্তিক শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা।

ডা. পাঁজা আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা সিএসআর বিনিয়োগ ও ইউনিসেফ-এর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
ভারতের ইউনিসেফ প্রতিনিধি সিন্থিয়া ম্যাকক্যাফ্রি বলেন, 'ভারত সরকারের সঙ্গে ইউনিসেফ ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছে। এই আলোচনার মাধ্যমে শিশু ও পরিবারগুলির কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। আমরা এক সঙ্গে আরও শক্তিশালী – জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করলে সমাজের চাহিদা পূরণে সক্ষম হব।'
এর আগে তিনি কর্পোরেট প্রতিনিধিদের সামনে ইউনিসেফ-এর কাজের উপস্থাপনা দেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় একটি আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, সরকারি হাসপাতাল, কন্যাশ্রী ক্লাব, প্রতিবন্ধী শিশুদের কেন্দ্র এবং স্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। মঙ্গলবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শিশুদের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প গ্রহণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
কর্পোরেট প্রতিনিধিরা মন্ত্রী এবং ইউনিসেফ কর্মকর্তাদের জানান, তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন এবং এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ইউনিসেফ-এর পশ্চিমবঙ্গ প্রধান ডঃ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ইউনিসেফ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অংশীদার হিসেবে এই আলোচনার মাধ্যমে কর্পোরেটদের বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য আমাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা কর্পোরেট নেতাদের সিএসআর পোর্টালে তাদের সংস্থাকে রেজিস্টার করার আহ্বান জানান। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব সংঘঘমিত্রা ঘোষ জানান, ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ইতিমধ্যেই পোর্টালে রয়েছে এবং ৩৭টি কর্পোরেট সংস্থা তাতে রেজিস্টার করেছে।