পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল (Governor) হওয়ার পরই হাতেখড়ি নিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, তিনি গড়গড়িয়ে বাংলা বলতে এবং লিখতে শিখবেন। নামেও বাঙালিয়ানা রয়েছে।
.jpeg.webp)
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 11 December 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ এসআইআর-এর (SIR West Bengal) শেষ দিন। এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে গিয়েছে প্রায় ৯৯ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের (West Bengal) ভোটার হতে চেয়ে লোকভবনে (Lok Bhavan) বিএলও এবং সুপার ভাইজারদের কাছে আবেদনপত্র জমা দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose)।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল (Governor) হওয়ার পরই হাতেখড়ি নিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, তিনি গড়গড়িয়ে বাংলা বলতে এবং লিখতে শিখবেন। নামেও বাঙালিয়ানা রয়েছে। সেই রাজ্যপাল যিনি রাজ্যের প্রথম নাগরিক, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হতে চান না বলে আগেই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র। কিন্তু তা মিথ্যে করে দিয়ে এই রাজ্যের ভোটার হতে চেয়ে আবেদন করলেন সি ভি আনন্দ বোস।
রাজ্যপালের কথায়, "এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই। রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন, সেই বাংলায় আমি ভোটার হতে চাই। আমার পদবি বোস। নেতাজি সুভাষ চন্দ্রও বোস। আমি মানসিক, সাংস্কৃতিকভাবে বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই।"
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০২২ সালে। কেরলের কোট্টায় বর্ষীয়ান পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর পদবিতে ‘বোস’। বাঙালি ফ্লেভার নিয়ে কৌতূহল ছিলই। কেরল-তামিলনাড়ুতে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্তানের নামের সঙ্গে ‘বোস’ যোগ করার রীতি বহুদিনের। রাজ্যপাল নিজেও জানিয়েছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুই তাঁর ‘নায়ক’।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলা শেখার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরস্বতী পুজোর দিন লোকভবন ‘ইস্ট লন’-এ বসেছিল রাজ্যপালের ‘হাতেখড়ি’র আয়োজন। এক ছোট্ট ছেলে তাঁকে হাতে-কলমে বাংলা বর্ণমালা শেখায়। পাঠশেষে রাজ্যপাল বলেছিলেন, “বাংলা খুব সুন্দর ভাষা। আমি বাংলা ও বাংলার মানুষকে ভালবাসি। নেতাজি আমার নায়ক। জয় বাংলা, জয় হিন্দ।”
কিন্তু প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রাজ্যপাল এখনও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার নন। কমিশনের তথ্য বলছে, তাঁর নাম রাজ্যের ভোটার তালিকায় নেই।
রাজ্যপাল পদে থাকা ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভোটার হওয়ার অধিকার থাকে। লোকভবনের তরফে নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি গেলেই নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়। সাধারণ নাগরিকের মতো খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও নেই। পূর্বতন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এ রাজ্যে নিজের ভোটার পরিচয় তৈরি করেছিলেন, ভোটও দিয়েছিলেন। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পালা সি ভি আনন্দ বোসের।