রাজভবনের নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। অবশেষে কেন্দ্রের অনুমোদন মিলতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল রাজভবন কর্তৃপক্ষ।

রাজভবন ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 29 November 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) উদ্যোগে রাজভবনের (Raj Bhavan Name) নাম পাল্টে গেল। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ওই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে। ফলে ঔপনিবেশিক আমলের ছাপ সরিয়ে বাংলার রাজভবনের নতুন নাম হল ‘লোক ভবন’ (Lok Bhavan)।
নাম পরিবর্তনের ঘোষণা এসেই, রাজভবনের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলের নামও বদলে দেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচয়— ‘লোকভবন’। সেখানেই পোস্ট করে জানানো হয়েছে এই সিদ্ধান্তের কথা। রাজভবনের নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। অবশেষে কেন্দ্রের অনুমোদন মিলতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল রাজভবন কর্তৃপক্ষ।
এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘জন রাজভবন’-উদ্যেগের লক্ষ্য ছিল প্রাসাদের ঐ কাব্যিক দূরত্ব ঘুচিয়ে সাধারণ জনমানুষের কাছে রাজভবনকে আরও উন্মুক্ত করা। তাদের সমস্যা-আশঙ্কা শুনে তদনুযায়ী প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। গত তিন বছরে— প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক বা সামাজিক উদ্বেগ, জন রাজভবন সরাসরি জনসেবায় নামিয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যপাল।
এবার সরকারি পর্যায়ে নামকরণের ভিত্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের এক নির্দেশনা। মন্ত্রক ২৫ নভেম্বর, ২০২৫-এর নোটিফিকেশনে জানিয়েছে, দেশের সকল রাজভবন ও রাজনিবাসকে যথাক্রমে ‘লোক ভবন’ ও ‘লোক নিবারণ/নিবাস’ (Lok Bhavan / Lok Niwas) নামে পুনঃনামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে খাঁটি জন-উদ্যোগ এবং জনসম্মুখী ভাববিকাশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই নির্দেশনা মেনে পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনও এখন ‘লোক ভবন’ বলে অভিহিত হবে— এমনটাই শনিবার রাজ্যপাল জানিয়েছেন।
সরকারি আলাপ-আলোচনায় বলা হয়েছে, ‘জন রাজভবন’ কেবল নাম নয়; এ একটি কর্মযোজনা। গত তিন বছরে রাজভবন জেলা পর্যায়ে তৎপর থেকেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নির্যাতন-অভিযোগ তদন্ত বা জনদুর্ভোগে মাঝামাঝি এসে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে। বদলে যাওয়া নামের সঙ্গে সেই কার্যক্রমকে আরও আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যপালের টুইটেই বলা হয়েছে, ‘‘লোক ভবন হিসেবে কাজের ক্ষেত্র আরও বাড়বে; জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা মেটানোর জন্য রাজভবনের ভাবমূর্তি বদলানো প্রয়োজন ছিল।’’
বস্তুত, বাংলার সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিনটি বছর কাটিয়ে ফেললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সম্প্রতি বেশ খানিকটা সময় ধরে রাজভবনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের মতানৈক্য তৈরি হয়েছে একাধিক ইস্যুতে। কখনও বিলে সময়মতো সই না করা, কখনও আবার রাজ্যে রাজনৈতিক অশান্তির দায় শাসকদলের উপর চাপিয়ে দেওয়া – নানা বিষয়ে রাজ্যপালের ‘অতিসক্রিয়তা’, ‘বিতর্কিত’ পদক্ষেপ বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে সাময়িক তিক্ততা কাটিয়ে সামগ্রিকভাবে বাংলা নিয়েই মেতে থাকতে ভালবাসেন রাজ্যপাল। ক'দিন আগেই জানিয়েছিলেন, বাংলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। গ্রামবাংলাকে আরও দেখতে চান, আরও সময় কাটাতে চান।