আগামী ৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। এই অধিবেশনেই নয়া সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব আনতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 23:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) পাশ হওয়ার পরও রাজ্যপাল (Governor) দিনের পর দিন বহু বিল (Bill) আটকে রেখেছেন বলে অতীতে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এ বিষয়ে বিধানসভায় নয়া সংশোধনী প্রস্তাব ( Amendment Proposal) আনতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল।
এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের একটি নির্দেশকে হাতিয়ার করছে রাজ্য। গত এপ্রিলের একটি ঘটনায় তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে তাঁর দায়িত্ব-কর্তব্য মনে করিয়ে দিয়েছিলে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও রাজ্যের বিধানসভায় গৃহীত বিল রাজ্যপাল অনুমোদনের অপেক্ষায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে পারেন না। তা আইনসিদ্ধ নয়। সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যের পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও সরকারের মধ্যে চাপানউতরও তৈরি হয়েছিল। এবার এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপব করতে চলেছে শাসকদল।
আগামী ৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। এই অধিবেশনেই নয়া সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব আনতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “সুপ্রিম কোর্টের রায়েও বলা হয়েছে, বিধানসভায় গৃহীত বিল রাজ্যপাল অনুমোদনের অপেক্ষায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে পারেন না। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আনা হতে পারে।"
জানা যাচ্ছে, বিধানসভায় আনা ওই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। অনুমতি মিললে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটির জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে।
প্রসঙ্গত, এই ইস্যুতে কয়েকদিন আগেই রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।
শোভনদেব বলেন, 'কোথাও লেখা নেই রাজ্যপাল ইচ্ছেমতো বিল আটকে রাখতে পারবেন বা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যদি কোনও বিল নিয়ে তাঁর আইনগত আপত্তি থাকে, তিনি সরকারকে চিঠি লিখে তা জানাতে পারেন। অতিরিক্ত কিছু করার ক্ষমতা তাঁর নেই। যেসব বিল নিয়ে রাজ্যপালের আপত্তি আছে, তিনি তা রাজ্য সরকারকে জানাতে পারেন। তবে বাধ্যতামূলকভাবে সেই বিল অনুমোদন করতে হবে। একান্ত প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে রাখা একপ্রকার ক্ষমতার অপব্যবহার।'
শোভনদেব সেই সূত্রেই রাজ্যপালের পদটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, 'অনেক রাজ্যে এই প্রশ্ন উঠছে যে রাজ্যপাল পদটির আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। সুপ্রিম কোর্ট যেটা বলেছে, সেটা একেবারে সঠিক। সমস্ত রাজ্যপালেরই সেই পর্যবেক্ষণ মেনে নেওয়া উচিত।'