Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

সুবর্ণরেখার পাড়ে ‘মনে মোড়া পাখি’ দেখা দিল অনেক বছর পরে, তার নাম ধাম বাড়ির ঠিকানা রইল এখানে

পাখিবিদদের মতে, রেড নেকড স্টিন্ট সাধারণত সমুদ্র উপকূলের বালুচরে ছোট চিংড়ি ও জলজ ক্ষুদ্র প্রাণী খুঁজে বেড়ায়। ঢেউয়ের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার সংগ্রহ করাই তাদের স্বভাব। 

সুবর্ণরেখার পাড়ে ‘মনে মোড়া পাখি’ দেখা দিল অনেক বছর পরে, তার নাম ধাম বাড়ির ঠিকানা রইল এখানে

সাইবেরিয়া থেকে আসা রেড নেকড স্টিন্ট

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 16 February 2026 18:24

দ্য ওয়াল, ঝাড়গ্রাম: শ্রেয়া ঘোষালের (shreya ghoshal) গাওয়া ‘সুবর্ণরেখা’ গানটির কথা মনে আছে? “ফাগুনে, হুম হুম/ পুড়ে ছারখার যন্ত্রণাকার, আমাদের দালানে, মনে মোড়া পাখি আসবে কি আর’! 

আনন্দ সংবাদ। ঝাড়গ্রামের (Jhargram) গোপীবল্লভপুরে সেই সুবর্ণরেখা নদীর (Subarnarekha) ধারে পাখি এসেছে। ফের দেখা মিলেছে একেবারে অপ্রত্যাশিত এক অতিথির। সাইবেরিয়া থেকে আসা বিরল পরিযায়ী পাখি রেড নেকড স্টিন্টের (Red necked stint) দেখা মিলেছে নদীতীরবর্তী এলাকায়। এতদিন পর্যন্ত এই পাখির দেখা মিলত মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি (Bakkhali) ও ফ্রেজারগঞ্জের মতো সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে। নদীর ধারে তাদের উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পক্ষী গবেষক মহলে।

পাখিবিদদের মতে, রেড নেকড স্টিন্ট সাধারণত সমুদ্র উপকূলের বালুচরে ছোট চিংড়ি ও জলজ ক্ষুদ্র প্রাণী খুঁজে বেড়ায়। ঢেউয়ের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার সংগ্রহ করাই তাদের স্বভাব। কিন্তু সুবর্ণরেখার ধারে এই পাখিদের তুলনামূলক ধীর গতিতে খাবার খেতে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এই পরিবর্তিত আচরণই গবেষকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।

গবেষকদের দাবি, সুবর্ণরেখা নদীতীরবর্তী অঞ্চলে অন্তত তিন ধরনের স্টিন্ট প্রজাতির উপস্থিতি নজরে এসেছে। বাংলায় যাদের পরিচিত নাম লাল ঘাড় চাপাখি, ছোট চাপাখি ও টেমিঙ্কের চাপাখি। সাইবেরিয়ায় তীব্র শীত ও বরফে ঢাকা পড়লে খাবারের সন্ধানে হাজার হাজার কিলোমিটার উড়ে উষ্ণ অঞ্চলের দিকে আসে এই ক্ষুদ্রাকৃতির পরিযায়ী পাখির দল।

পশ্চিম মেদিনীপুরের সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুমন প্রতিহার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “রেড নেকড স্টিন্ট এতদিন সমুদ্র তীর ছাড়া অন্যত্র দেখা যায়নি। গোপীবল্লভপুরে নদীর ধারে এদের উপস্থিতি পরিবেশগত অভিযোজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখে।”

ঝাড়গ্রামের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র মাহাতও এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত। তাঁর কথায়, “এই পাখিদের এখানে থাকার কথা নয়। প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরে গবেষকদের জানালে তাঁরাও অবাক হন।”

লালগড় গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যাপক ও ইন্ডিয়ান বার্ড কনজার্ভেশন নেটওয়ার্কের সদস্য দেবব্রত দাসের মতে, “ঝাড়গ্রামে আগে এই প্রজাতির পরিযায়ী পাখির উপস্থিতির কথা শোনা যায়নি। যদি নিয়মিতভাবে এদের দেখা মেলে, তবে তা জঙ্গলমহলের জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”

জঙ্গল, পাহাড় ও নদী—এই তিনের মিলনে ঝাড়গ্রাম অঞ্চল ক্রমেই নতুন নতুন পরিযায়ী পাখির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে। রেড নেকড স্টিন্টের মতো বিরল অতিথির আগমন সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করে তুলল।


```