বন দফতরের দাবি, যে জমিতে রিসর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে, তা ১০০ শতাংশ বন দফতরের মালিকানাধীন।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও বন দফতরের জমি দখলের অভিযোগ (Illegal construction on forest department land)! ঝাড়গ্রামের জিতুশোল এলাকায় বন দফতরের জমির উপর বেআইনি ভাবে রিসর্ট তৈরির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য (Jhargram Forest occupation, Resort,)। ইতিমধ্যেই লোধাশুলির রেঞ্জ অফিসার নির্মীয়মাণ রিসর্টের প্রাচীরে নোটিস সাঁটিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবুও নির্দেশ অমান্য করে চলছে নির্মাণকাজ।
বন দফতরের দাবি, যে জমিতে রিসর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে, তা ১০০ শতাংশ বন দফতরের মালিকানাধীন। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম জানিয়েছেন, “জঙ্গলখাসের ৭৩১টি মৌজার মধ্যে ৩৯ নম্বর প্লট সম্পূর্ণ বন দফতরের। তা অবৈধভাবে দখল করে রিসর্ট তৈরি হচ্ছে—এটি সরাসরি বন আইন লঙ্ঘন।”
দফতরের নোটিসে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। এক শ্রমিকের দাবি, “মালিক এক বছর আগে জমি কিনেছেন, তাঁর নির্দেশেই কাজ করছি।” মালিক হিসেবে নাম উঠে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার বাসিন্দা গোবিন্দ মাইতির।
কীভাবে সরকারি জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড হল? বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে রেকর্ডে ভুলবশত বনজমি অন্য নামে নথিভুক্ত হয়ে যায়। পরে তা একাধিকবার হাতবদল হয়ে জমি মাফিয়াদের দখলে আসে।
জঙ্গলমহলের বনভূমি ক্রমে সঙ্কুচিত হচ্ছে। লোধাশুলি ও ঝাড়গ্রাম রেঞ্জে ইতিমধ্যেই একের পর এক বেসরকারি হোম-স্টে ও রিসর্ট গড়ে উঠছে। এতে শুধু বনভূমি নয়, হাতির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে, এমনই অভিযোগ বনকর্মীদের। ফলের বাগান তৈরি করায় সেই এলাকাগুলিতেও হাতির অনুপ্রবেশ বাড়ছে।
বন দফতর ইতিমধ্যেই জমি পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করেছে। নকশা খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক সন্দেহজনক প্লট। দফতরের সূত্রে খবর, আরও কয়েকটি রিসর্ট ও হোম-স্টে-র বিরুদ্ধেও নোটিস জারি হতে পারে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কল্যাণ মাহাত বলেন, “আমরা চাই অবিলম্বে বেআইনি দখল বন্ধ হোক।” গ্রামবাসী নীলকমল মাহাতের বক্তব্য, “আমাদের জঙ্গল দখল হয়ে যাচ্ছে, কেউ কিছু বললে ভয় দেখানো হয়।” সিকিউরিটি কর্মী জাগো মিদ্দা ও তপন মিদ্দা বলেন, “বন দফতরের লোকেরা এলে কাজ কিছু সময়ের জন্য থামে, পরে আবার শুরু হয়।”