গোলপার্ক-ঢাকুরিয়া এলাকায় দখলদারি নিয়ে গুলি-বোমার ঘটনায় উঠল সোনা পাপ্পুর নাম। রবীন্দ্র সরোবর থানার মামলায় গ্রেফতার ১০, চলছে তল্লাশি।

গোলপার্কের ঘটনা
শেষ আপডেট: 2 February 2026 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে সাউথসিটি কলেজ, অন্যদিকে গড়িয়াহাট। এমন জনবহুল এলাকা হঠাৎ সন্ধেয় রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোডের ঘটনায় তাজ্জব এলাকাবাসী। গুলি, বোমাবাজির আতঙ্ক সোমবার সকালেও ভুলতে পারছেন না কেউ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোটা ঘটনাই দখলদারির বিষয়। যার কেন্দ্রে রয়েছে কুখ্যাত সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) নাম। কে এই সোনা পাপ্পু? কার মদতে উঠেপড়ে লাগছে সে? আতঙ্কে থাকা বাসিন্দারা বলছেন, ‘এলাকার শান্তি ওরাই শেষ করে দিল।’
কসবা-ঢাকুরিয়ার ‘দু’নম্বর শাসক’
সোনা পাপ্পু এখন কসবা (Kasba), ঢাকুরিয়া (Dhakuria), রামলাল বাজার—তিনটে এলাকারই আতঙ্কের নাম। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের হয়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণের কাজ সামলায় সে। রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় (Baishwanor Chattopadhyay)। এলাকার নিয়ন্ত্রণ অবশ্য তাঁর স্ত্রী চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের (Chaitali Chattopadhyay) ৯০ নম্বর ওয়ার্ডে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ আরও গুরুতর, বেআইনি নির্মাণ থেকে ভোটের আগে বিরোধীদের ঘরবন্দি রাখা, সবেতেই সোনা পাপ্পু ও তার দলবলের হাত রয়েছে। পুরসভায় মাসখানেক আগে ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ে। প্রতিটি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পুর হাত ছিল। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়ররা নাকি সব জানেন, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস নেই। কেন? ‘শাসকদলের বড় বড় নেতার ছায়া ওর মাথায়,’ অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশেরই।
পঞ্চাননতলা বস্তি—ঝামেলার মূল কেন্দ্র
তাহলে রবিবার রাতে কেন এত বড় গন্ডগোল? স্থানীয় সূত্রের দাবি, পঞ্চাননতলা বস্তি (Panchanantala Basti) অনেকদিন ধরেই সোনা পাপ্পুর নজরে। বস্তিকে ‘খালি’ করে সেখানে নির্মাণ তোলার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পথে দাঁড়িয়ে যান বস্তির বর্তমান নিয়ন্ত্রক বাপি নামে এক যুবক। বাপির কথাই এখন বাসিন্দাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে এই বস্তির মাতব্বররা সোনা পাপ্পুর গলার কাঁটা হয়ে ওঠেন। দখল নিতে না পেরেই উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল বহুদিন ধরে। রবিবার তারই বিস্ফোরণ হয়।
শাসকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি সামনে
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের তাবড় নেতাদের একাধিক ছবি। কখনও কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের (Javed Khan) পাশে, কখনও তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতা জেলার সভাপতি দেবাশিস কুমারের (Debasish Kumar) অনুষ্ঠানে। আবার বৈশ্বানর বা চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর মেয়ের অন্নপ্রাশনের ছবিও সামনে এসেছে।
তবে দেবাশিস কুমারের দাবি, ‘যে দোষ করেছে, তাকে গ্রেফতার করতেই হবে। আমার পাশে থাকলেই কেউ পার পেয়ে যাবে না।’
রবিবার রাতের ঘটনায় গ্রেফতার ১০
রবীন্দ্র সরোবর থানার (Rabindra Sarobar PS) পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। সামনে এসেছে নাম। তালিকায় রয়েছে ববি হেলা (Bobby Hela), অর্জুন মল্লিক (Arjun Mallick), শেখ বাচ্চু (Sk. Bacchu), মুকেশ পাসোয়ান (Mukesh Paswan), রবীন দাস (Rabin Das), সুজন হালদার (Sujan Haldar), রাজ হালদার (Raj Haldar), গোপাল সরকার (Gopal Sarkar), অজয় হালদার (Ajay Haldar), সন্দীপ নস্কর (Sandip Naskar)।
এনিয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। বলেন, 'কাউকে ছাড়া হবে না। গতকাল সারারাত ধরে রেড হয়েছে। সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১০ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।'
গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেকেই কসবা–ঢাকুরিয়া–কাঁকুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, তল্লাশি চলছে, আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।