স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যাদবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পাঁচিল তোলার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের সকাল শুরু হতেই উত্তাল হয়ে উঠল যাদবপুর (Jadavpur)। পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার যাদবপুর হাই স্কুলের সামনে শতাব্দীপ্রাচীন খেলার মাঠ দখলকে (playground encroachment) কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের মধ্যে (Clash with police)। অভিযোগ, প্রোমোটারের স্বার্থে একতরফা ভাবে মাঠের চারপাশে পাঁচিল তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোরে আচমকাই মাঠের ভিতরে ঢুকে পড়ে একাধিক গাড়ি। নামানো হয় ইট, বালি, সিমেন্ট ও জলের ট্যাঙ্ক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল লোক তড়িঘড়ি মাঠের চারদিকে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করে দেয়। ভোরের আলো ফুটতেই বিষয়টি নজরে আসে পাড়ার বাসিন্দাদের। খবর ছড়াতেই একে একে মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষজন।
পাড়ার লোকজন কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানালেও তা শোনা হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে আরও দ্রুত গতিতে পাঁচিল তোলার কাজ চলতে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর বক্তব্য, এই মাঠ কেবল খেলাধুলার জায়গা নয়, দীর্ঘদিন ধরে তা এলাকার সামাজিক জীবনের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে খেলাধুলা ও নানা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। সেই মাঠ দখল করে নির্মাণের চেষ্টা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভূমিকা ঘিরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যাদবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পাঁচিল তোলার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ। সেই ঘটনার পরই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
গ্রেফতারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডায় মাঠ চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নামাতে হয়। কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকা কার্যত থমকে যায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শতাব্দীপ্রাচীন একটি খেলার মাঠে কী ভাবে হঠাৎ করে নির্মাণ সামগ্রী ঢোকানো হল? কোন অনুমতিতে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু হয়েছিল? আর কেন পুলিশের একাংশ সেই কাজে সক্রিয় সহযোগিতা করল? যদিও এই ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাঠ দখলের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।