অশোক লাহিড়ির প্রশ্ন, বাজেটে বাংলার জন্য কিছুই নেই—এই বক্তব্যের বাস্তব ভিত্তি কোথায়? তাঁর যুক্তি, কাজ করার মানসিকতা থাকলে অনেক কিছুই করা যায়।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের বছরের বাজেট বলে কথা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) বাজেট (Budget 2026) ঘোষণার পরই যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বাংলার বঞ্চনা নিয়ে সরব, ঠিক তখনই সেই অভিযোগের পাল্টা অস্ত্র হিসেবেই তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে বেকায়দায় ফেলতে মরিয়া বিজেপি। আর সেই লড়াইয়ের সামনের সারিতে উঠে এল বাঙালির চিরচেনা খাদ্যাভ্যাস—মাছ ও মাংস।
সাংবাদিক বৈঠক থেকে বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ির (Ashoke Lahiri) দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলায় মাছ-মাংস খেতে দেবে না—তৃণমূলের এই প্রচার বাজেটের আলোতেই মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বাজেটে ৫০০টি জলাধার নির্মাণ, উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্য বিকাশ এবং পশুপালনে জোর দেওয়ার ঘোষণার কথা তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন, তা হলে মাছ-মাংস বন্ধ হওয়ার গল্প এল কোথা থেকে?
এই বিতর্ক যে নিছক কথার লড়াই নয়, তা স্পষ্ট বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্টের দিকে তাকালেই। চলতি বছরই রাজ্যে নির্বাচন। বিজেপিকে ‘সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছে। অশোক লাহিড়ির মতে, নির্মলা সীতারামনের এই বাজেট শুধু দেশের বিকাশের দিশাই দেখায়নি, বাংলায় তৃণমূলের মিথ্যাচারের ফানুসও ফাটিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী দিনে এই ইস্যুতে পদ্মশিবিরের সুর আরও চড়বে। পাল্টা জবাবে তৃণমূল কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “চোরের মায়ের গলা। বাংলাকে কিছু দেয়নি। টোটালটাই মিথ্যে কথার ফুলঝুড়ি। এ বাজেট হাম্পটি–ডাম্পটি বাজেট।” রাজ্যকে বঞ্চনা করাই যে কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য, সেই অভিযোগেই সরব হন তিনি।
তবে বিজেপির দাবি, সেই অভিযোগ আদৌ টেকসই নয়। অশোক লাহিড়ির প্রশ্ন, বাজেটে বাংলার জন্য কিছুই নেই—এই বক্তব্যের বাস্তব ভিত্তি কোথায়? তাঁর যুক্তি, কাজ করার মানসিকতা থাকলে অনেক কিছুই করা যায়। তামিলনাড়ু বিরোধী শাসিত রাজ্য হয়েও এগিয়ে গিয়েছে—সেখানে বাংলায় বারবার বঞ্চনার অভিযোগ তোলা আসলে অজুহাত।
কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি কী করতেন? আরও ঋণ নিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়াতেন? তাঁর মতে, জনহিতকর সরকার শুধু খরচ বাড়ায় না, সম্পদ সৃষ্টিতেও জোর দেয়। সেই কারণেই মূলধনী খাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে—গত বছরের ১১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে এ বার তা পৌঁছেছে ১২ লক্ষ কোটিতে।
নারী সুরক্ষার প্রশ্নেও কেন্দ্রীয় ঘোষণাকে সামনে এনে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছে বিজেপি। দেশের প্রতিটি জেলায় মেয়েদের জন্য হস্টেল তৈরির ঘোষণার পর অশোক লাহিড়ির প্রশ্ন—বাংলা কি তার জন্য প্রস্তুত? শিল্পায়ন, শিল্প ক্লাস্টার এবং নগরায়ন নিয়েও রাজ্য সরকারের স্পষ্ট পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। কেন্দ্র ঘোষিত সাতটি হাই-স্পিড করিডরের মধ্যে শিলিগুড়ির নাম থাকলেও, তা যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে রাজ্য কতটা প্রস্তুত—সেই সংশয়ও প্রকাশ পেয়েছে।
বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তোলেন—শিলিগুড়িতে হাই-স্পিড রেল করিডর হলে মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে বলেন বাংলাকে কিছুই দেওয়া হয়নি? তা হলে কি উত্তরবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে?